ছবি: সংগৃহীত
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত—
প্রিয় নবীজি রাসূলে পাক (ﷺ) একদিন সাহাবিদের উদ্দেশে বলেন, তিনি কি তাঁদের এমন দুই ব্যক্তির কথা জানাবেন না, যারা নানা-নানী, পিতা-মাতা, চাচা-ফুফু ও মামা-খালার দিক থেকে সর্বাধিক সম্মানিত বংশের অন্তর্ভুক্ত?এরপর তিনি স্পষ্ট করে বলেন—এই দুই ব্যক্তি হলেন ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)। তাঁদের নানা স্বয়ং আল্লাহর রাসূলে (ﷺ)
নানী হযরত খাদিজা (রাঃ), মাতা ফাতিমা (রাঃ),
পিতা আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ),মামা কাসিম (রাঃ) এবং খালা জয়নব, রুকাইয়া ও উম্মে কুলসুম (রাঃ)। দয়াল নবীজি রাসূলে পাক (ﷺ) জানান—এই পরিবারের সবাই জান্নাতি, আর হাসান ও হোসাইনও জান্নাতের অধিবাসী হবেন। (তাবরানি, ইবনে আসাকির, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ) সংক্ষিপ্ত আরবি ভাবার্থ:
هُمَا سَيِّدَا شَبَابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَمِنْ أَفْضَلِ نَسَبٍ
∆ কারবালা ও কোরবানির গভীর তাৎপর্য
আল্লামা ইকবাল (রহ.) তাঁর বক্তব্যে বলেন—ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাঈল (আ.)-এর কোরবানির ঘটনা ছিল এক গভীর রহস্যপূর্ণ শিক্ষা, যার বাস্তব ও রক্তাক্ত প্রমাণ প্রকাশ পেয়েছে কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের মাধ্যমে। প্রিয় নবীজি (ﷺ)-এর ওফাতের পর তাঁর বংশধারা আলী (রাঃ) ও ফাতিমা (রাঃ)-এর মাধ্যমে অব্যাহত থাকে। কারবালায় সেই বংশের পবিত্র রক্ত বিসর্জনের মাধ্যমে ইসলামের সত্য ও ন্যায়ের পতাকা আরও উজ্জ্বল হয়। আহলে বাইত সাধারণ মুমিনদের মতো নন আল্লাহ তাঁদের দিয়েছেন বিশেষ মর্যাদা, কারণ তাঁরা রাসূলের পরিবারভুক্ত। হাসান ও হোসাইন আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত হযরত উম্মে সালামা (রাঃ) বর্ণনা করেন—প্রিয় নবীজি রাসূলে পাক (ﷺ) ফাতিমা, হাসান ও হোসাইনকে নিজের চাদরের নিচে একত্র করেন এবং দোয়া করেন— اللَّهُمَّ هَؤُلَاءِ أَهْلُ بَيْتِي فَطَهِّرْهُمْ تَطْهِيرًا
অর্থাৎ—“হে আল্লাহ! এরা আমার আহলে বাইত। আপনি তাঁদের সম্পূর্ণ পবিত্র করুন।” (হাকেম, তাবরানি, তাফসিরে তাবারি, ইবনে কাসির, তিরমিজি)
নবীর গুণাবলির উত্তরাধিকার হযরত ফাতিমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত—তিনি দয়াল নবীজি রাসূলে পাক (ﷺ)-এর অসুস্থতার সময় হাসান ও হোসাইনকে তাঁর সামনে এনে বলেন—“ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এদের কিছু উত্তরাধিকার দান করুন।” প্রিয় নবীজি রাসূলে পাক(ﷺ) বলেন—
হাসান আমার নেতৃত্ব ও দৃঢ়তার উত্তরাধিকারী,আর হোসাইন আমার ধৈর্য ও দানশীলতার উত্তরাধিকারী।
(তাবরানি, আল আহাদ ওয়াল মাসানি)
নবীজি নিজেই তাঁদের নামকরণ করেন
হযরত আলী (রাঃ) বলেন—হাসান জন্মগ্রহণের পর আমি তাঁর নাম রেখেছিলাম “হারব”,কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা পরিবর্তন করে রাখেন “হাসান”। হোসাইন ও মুহসিনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। প্রিয় নবীজি (ﷺ) বলেন—
এই নামগুলো হারুন (আ.)-এর পুত্রদের নামের আরবি রূপ। (মুস্তাদরাক, মুসনাদে আহমদ)
উম্মুল ফযলের স্বপ্ন- উম্মুল ফযল (রাঃ) একটি স্বপ্নের কথা নবীজি (ﷺ)-কে জানালে তিনি বলেন—এটি সুসংবাদ। ফাতিমা (রাঃ) একটি পুত্র সন্তানের জন্ম
দেবেন, যাকে তুমি কোলে নেবে। পরবর্তীতে ইমাম হোসাইন (আ.) জন্মগ্রহণ করেন এবং স্বপ্ন বাস্তব হয়।
(মিশকাত) জান্নাতি নাম ইমাম হাসান ও হোসাইন— را:
এই দুটি নাম জান্নাত থেকে আগত,জাহেলি যুগে এ নামে কারও নামকরণ ছিল না। (ইবনে হাজর মক্কি, উসদুল গাবা) কানে আজান আবু রাফে (রাঃ) বলেন—
হাসান ও হোসাইনের জন্মের পর প্রিয় নবীজি রাসূলে পাক(ﷺ) নিজ হাতে তাঁদের কানে আজান দেন।(তাবরানি, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ) আকিকা হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন—নবীজি (ﷺ) হাসান ও হোসাইনের (রাঃ)পক্ষ থেকে প্রত্যেকের জন্য দুটি করে দুম্বা আকিকা দেন। (নাসাই) ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) শুধু নবীজির দৌহিত্র নন, বরং তাঁরা ইসলামের নৈতিকতা, ত্যাগ ও সত্যের জীবন্ত প্রতীক। আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসাঈমানেরই অংশ।
চলমান….
الإمام الحسن (رضي الله عنه) والحسين (رضي الله عنه) সর্বোত্তম বংশ
