আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা নির্ধারিত আইন ও বিধিমালার আলোকে পরিচালিত হবে। কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব, রাজনৈতিক চাপ কিংবা জোরজবরদস্তির সুযোগ থাকবে না; রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হবে আইনের শাসন।
বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ফলে একটি নাজুক অর্থনীতি, দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে জুয়া ও মাদকের বিস্তার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ কারণে জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ কঠোরতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনজীবনে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলেও জানান তিনি।
সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা সম্ভব হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা এই সরকার গঠনে ভোট দিয়েছেন, যারা ভোট দেননি কিংবা যারা ভোটদানে অংশ নেননি—রাষ্ট্রের কাছে সবার অধিকার সমান। সরকার বিশ্বাস করে, দল-মত ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
শেষে তিনি দেশবাসীর জন্য দোয়া কামনা করে বলেন, আল্লাহ যেন সবাইকে নিরাপদ ও সুস্থ রাখেন এবং দেশের কল্যাণে গৃহীত ইতিবাচক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের তৌফিক দান করেন।
আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও দুর্নীতি দমন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
