আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব, আগ্রহ ও অগ্রাধিকার বোঝার লক্ষ্যে একটি দেশব্যাপী জনমত জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। “আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস:ফাইন্ডিংস
ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে” শীর্ষক এই জরিপের ফলাফল আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়।এই জরিপটি যৌথভাবে পরিচালনা করেকমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজ। সংবাদ সম্মেলনে জরিপের বিস্তারিত ফলাফল ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এতে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোটার ভোট দিতে আগ্রহী, যদিও প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো ভোট দেওয়া নিয়ে অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছেন।জানা যায়, জরিপটি দেশের ৬৪টি জেলার ১৮০টি সংসদীয় আসনে পরিচালিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার। জরিপটি ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই ধাপে সম্পন্ন করা হয়।জরিপে উঠে এসেছে, ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবচেয়ে গুরুত্ব- পূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে দুর্নীতির বিষয়টি। এতে অংশগ্রহণকারী ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ধর্মীয় বিষয়কে গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন।পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা— এসব বিষয়ও ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে জরিপে উঠে এসেছে।জরিপের ফলাফলে আরও দেখা যায়, আগে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন (যাদের দল বর্তমানে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ), তাদের একটি বড় অংশ এবারের নির্বাচনে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকছেন। এই ভোটারদের মধ্যে ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ বিএনপিকে, ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ
জামায়াতকে,এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া ১৩ শতাংশ ভোটার অন্যান্য দলকে ভোট দেবেন বলে মত দিয়েছেন। তবে ২ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।২০০৮ সালের পর যারা প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন— এমন নতুন ভোটারদের মধ্যেও ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। জরিপ অনুযায়ী, এই ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতকে, ২৭ শতাংশ বিএনপিকে, এবং ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন।জাকারিয়া পলাশ বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন, যারা মানুষের কথা শুনবেন, জনস্বার্থে কাজ করবেন এবং দৃঢ় নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতে, ব্যক্তিগত বিশেষ যোগ্যতার চেয়ে জনদরদি ও মানুষের কাছের প্রার্থীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দল ও প্রার্থীরগুরুত্ব সম্পর্কেও জরিপে ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার দল ও প্রার্থী— উভয়কেই সমানভাবে গুরুত্ব দেবেন। ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ শুধু দলকে, এবং ৩০ দশমিক ২ শতাংশ শুধু প্রার্থীকে গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন। আর ৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি, তারা কোন বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের রেডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রফেসরিয়াল ফেলো এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ। তিনি বলেন, যেহেতু আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, তাই তাদের পূর্বের ভোটব্যাংক কোন দিকে যাবে— সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তিনি আরও বলেন, ভোট দেওয়ার আগ্রহ বাড়লেও ভোটের দিনের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবেশ বড় ভূমিকা রাখবে। অনুকূল পরিস্থিতি না থাকলে বর্তমানে সিদ্ধান্তহীন থাকা ভোটারদের একটি বড় অংশ ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।