সংগ্রহীত ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে দুই নির্বাচনেই তপশিল ঘোষণা করবেন। তপশিল ঘোষণার জন্য টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারের ভাষণ ইতোমধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। দিনের শুরুতে নির্বাচন কমিশন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করে।ইসি সূত্র বলছে, আইন অনুযায়ী নতুন আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের গেজেট প্রকাশ ছাড়া ৩০০ আসনের তপশিল ঘোষণা করা সম্ভব নয়। বাগেরহাটের একটি আসন কমানোর বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় গতকাল আপিল বিভাগ বহাল রাখায় কমিশনকে নতুন করে সীমানা নির্ধারণের গেজেট প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় বাগেরহাট ও গাজীপুরের আসন বাদ দিয়ে ২৯১টি আসনে তপশিল ঘোষণা করতে হবে। সূত্র জানায়, রিভিউ করার সুযোগ থাকলেও কমিশন তা না করে আদালতের রায় মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, তপশিল ঘোষণার আগেই রায় নির্বাচন কমিশনে পৌঁছাবে এবং সীমানা সংক্রান্ত নতুন গেজেট দ্রুত প্রকাশ করা হবে। তবে ইসির সিনিয়র সচিব জানিয়েছেন, রায় হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ৩০০ আসনের তালিকাই ধরে রাখা হবে।গত ৪ সেপ্টেম্বর ইসি ৩০০ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ চূড়ান্ত করে, যেখানে ১৬ জেলার ৪৬টি আসনে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এতে বাগেরহাটে আসন কমে ৪ থেকে ৩-এ নেমে আসে এবং গাজীপুরে ৫ থেকে বাড়িয়ে ৬টি করা হয়। আপিল বিভাগের রায়ের ফলে এখন বাগেরহাটের ৪টি এবং গাজীপুরের ৫টি আসনই পুনর্বহাল করতে হবে। সীমানা নির্ধারণ ছাড়া নির্বাচনের অন্যসব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে ইসি। বুধবার ইসির প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে। এ সময় রাষ্ট্রপতি সামগ্রিক প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতি যুক্তিসঙ্গত বলে মন্তব্য করেন।সাক্ষাতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নতুন দলের নিবন্ধন, প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার (ওসিভি), দেশের ভেতরে ডাকযোগে ভোট(আইসিপিভি)—এসব বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়। একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য দুটি আলাদা ব্যালট পেপার ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানায় কমিশন। রাষ্ট্রপতি ইসিকে অবাধ ওঅংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। এর আগে কমিশন আলাদাভাবে প্রধান বিচারপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচন প্রস্তুতির অগ্রগতি তুলে ধরে। প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনকে সফল ও ঐতিহাসিক করতে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দেন।এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে ১২ কোটিরও বেশি ভোটার অংশগ্রহণ করবেন। সংসদ নির্বাচনে সাদা ব্যালট পেপার এবং গণভোটে গোলাপি ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হবে।
“আজ ঘোষণা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তপশিল: সব প্রস্তুতি সম্পন্ন”
