নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সূত্র রয়টার্স-কে জানিয়েছে, এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি ‘হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার’ সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ধারণা করা হচ্ছে, চলমান আলোচনায় এটি একটি প্রধান ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত দিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরানের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র। তবে ওয়াশিংটন তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
শনিবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ সূত্রটি জানায়, জব্দ করা এই তহবিল ছাড়ের সিদ্ধান্তটি মূলত ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটনের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। সূত্রটির দাবি, তেহরান বারবার বিভিন্ন বার্তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানিয়ে আসছিল এবং সম্প্রতি তারা এ বিষয়ে মার্কিন সম্মতির ইঙ্গিত পেয়েছে।
বিষয়টির স্পর্শকাতরতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্রটি আরও জানায়, এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি ‘হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার’ সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনার টেবিলে এটিই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে যাচ্ছে।
যদিও ওই কর্মকর্তা নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক উল্লেখ করেননি, তবে আরেকটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, কাতার ও অন্যান্য ব্যাংকে আটকে থাকা প্রায় ৬০০ কোটি (৬ বিলিয়ন) ডলার ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে ডেলান্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন।
এ বিষয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আট বছর ধরে আটকে থাকা অর্থ
মূলত ২০১৮ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে ইরানের তেল বিক্রির এই ৬০০ কোটি ডলার আটকে যায়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দোহার মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় এই অর্থ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়।
সেই সময় চুক্তি অনুযায়ী, ইরানে আটক পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে মুক্তির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের হাতে থাকা পাঁচজন ইরানিকে ছেড়ে দেয় এবং এই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়।
তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। হামাস ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় জো বাইডেন প্রশাসন ওই তহবিলের ওপর পুনরায় বিধিনিষেধ আরোপ করে।
তখন মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, নিকট ভবিষ্যতে ইরান এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না এবং ওয়াশিংটন চাইলে যেকোনো সময় এই অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণভাবে জব্দ করার ক্ষমতা রাখে।
মার্কিন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছিল, এই অর্থ কেবল মানবিক কাজে ব্যয় করা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে ইরান এই অর্থ দিয়ে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য আমদানি করতে পারবে এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত বিক্রেতাদের মাধ্যমেই লেনদেন সম্পন্ন হবে।
বর্তমানে নতুন করে এই অর্থ ছাড়ের দাবি ওয়াশিংটন অস্বীকার করায় বিষয়টি ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে আবারও অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।