আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে শুক্রবার সামরিক হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। একই সময়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে “প্রকাশ্য যুদ্ধ” শুরুর ঘোষণা দেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি–এর সাংবাদিকরা জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কাবুলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশপথে যুদ্ধবিমান টহল দিতে দেখা যায়। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, কাবুলের পাশাপাশি কান্দাহার ও পাকতিয়া অঞ্চলেও হামলা হয়েছে, তবে এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে তিনি সামাজিকমাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে সেই পোস্ট সরিয়ে ফেলা হয় বলে জানায় বিবিসি।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই সামরিক পদক্ষেপকে সীমান্তে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আফগান বাহিনী সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা সদস্যদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছিল।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আরও কঠোর ভাষায় বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সক্ষম।
গত বছরের অক্টোবর মাসে সীমান্ত সংঘাতে উভয় দেশের অন্তত ৭০ জন প্রাণ হারান। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং সীমান্ত চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান ভূখণ্ডে সক্রিয় কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে এবং এ বিষয়ে তালেবান প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে তালেবান সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে।
এর আগে কাতার ও তুরস্ক–এর মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলেও একাধিক বৈঠক সত্ত্বেও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়।