রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন–এর বাসভবনে হামলার অভিযোগের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) শতাধিক ড্রোন ও বহু ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়। এতে শব্দের চেয়ে প্রায় দশ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহৃত হয়েছে। হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে কিয়েভ কর্তৃপক্ষও রাশিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সতর্ক করে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সীমান্তের এত কাছাকাছি এমন হামলা গোটা ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি এবং ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক অংশীদারদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, এই অভিযানে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৪২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হামলার ফলে কিয়েভে অবস্থিত কাতারের দূতাবাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে পুতিন একাধিকবার ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছিলেন। তার দাবি অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রের অত্যন্ত উচ্চ গতি পশ্চিমা দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিতে সক্ষম। পুতিনের ভাষায়, প্রচলিত ওয়ারহেড থাকা সত্ত্বেও এটি কার্যত পারমাণবিক অস্ত্রের সমান বিধ্বংসী প্রভাব ফেলতে পারে।এটি যুদ্ধক্ষেত্রে দ্বিতীয়বারের মতো ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা। ঘণ্টায় প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম এই অস্ত্র ইউরোপের যেকোনো অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোতে প্রথম
বারের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল রাশিয়া।
ইউক্রেনে ‘পারমাণবিক অস্ত্রের মতো’ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া
