মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত শর্ত মেনে শান্তিচুক্তিতে সম্মত না হলে দেশটিকে ‘স্টোন এজ’ বা প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ‘স্টোন এজে পাঠানো’ বলতে সাধারণত ব্যাপক মাত্রার বোমাবর্ষণ বোঝানো হয়। সামরিক ভাষায় এটি “কার্পেট বোম্বিং” হিসেবে পরিচিত—যেখানে একটি দেশের অবকাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার লক্ষ্য নেওয়া হয়। এর আওতায় হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক স্থাপনা এমনকি সাধারণ নাগরিক অবকাঠামোও রক্ষা পায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তা গণহত্যার পর্যায়েও পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন কঠোর সামরিক ভাষা বা হুমকি নতুন নয়। ধারণা করা হয়, ‘স্টোন এজে পাঠিয়ে দেওয়া’ বাক্যাংশটি প্রথম ব্যবহার করেন মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কার্টিস লেমে, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জাপানের বিভিন্ন শহরে ভয়াবহ বোমা হামলার তত্ত্বাবধান করেছিলেন।
পরবর্তীতে কোরিয়া যুদ্ধ চলাকালে ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে উত্তর কোরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বাহিনী ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালায়। এতে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় সম্পূর্ণ সক্ষমতা এবং অধিকাংশ স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলাকালেও একই ধরনের কৌশলের পক্ষে মত দিয়েছিলেন লেমে। ১৯৭২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন উত্তর ভিয়েতনামে ব্যাপক বোমা হামলার নির্দেশ দেন, যা ইতিহাসে ‘ক্রিসমাস বম্বিং’ নামে পরিচিত।
অন্যদিকে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা-র পর যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সতর্ক করেছিল—তালেবানবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা না করলে দেশটিকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে। সে সময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফ দাবি করেছিলেন, তাদের দেশকেও ‘স্টোন এজে’ পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল।