আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য নির্ধারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। তেহরান বলছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর একাংশ মনে করে, এই সক্ষমতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান স্বল্প, মাঝারি ও মধ্য-দূরপাল্লার একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ও প্রদর্শন করেছে, যার পাল্লা কয়েকশ কিলোমিটার থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানের স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
শাহাব–১: আনুমানিক ৩০০ কিলোমিটার পাল্লা।
ফাতেহ–১১০: প্রায় ৩০০ কিলোমিটার রেঞ্জের নির্ভুল-নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র।
কিয়াম–১: আনুমানিক ৮০০ কিলোমিটার পাল্লা।
জোলফাগার (Zolfaghar): প্রায় ৭০০ কিলোমিটার রেঞ্জ।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল, ইরাক, সিরিয়া এবং আশপাশের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে রাখতে সক্ষম। ইরান ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামরিক মহড়ায় এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছে।মধ্য-দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
মধ্য-দূরপাল্লার ক্ষেত্রে ইরানের হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম:
শাহাব–৩: আনুমানিক ১,৩০০ কিলোমিটার।
ইমাদ (Emad): প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।
খোররামশাহর: আনুমানিক ২,০০০ কিলোমিটার রেঞ্জ।
সেজ্জিল (Sejjil): কঠিন জ্বালানিভিত্তিক, প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পাল্লা।
আন্তর্জাতিক সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইরান থেকে নিক্ষেপ করলে ইসরায়েল, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের কিছু অংশতাত্ত্বিকভাবে এর আওতায় পড়ে।
কৌশলগত তাৎপর্য বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মূলত প্রতিরোধমূলক কৌশলের অংশ। তেহরান যুক্তি দেয়, পারমাণবিক অস্ত্র নয় বরং প্রচলিত ও নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার মাধ্যমে তারা সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে চায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর একাংশ মনে করে, এ কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে কঠিন জ্বালানিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎক্ষেপণযোগ্য হওয়ায় তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তারা উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র নীতির লক্ষ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বহিরাগত সামরিক চাপ মোকাবিলা করা।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র রেঞ্জ কয়েকশ কিলোমিটার থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনা, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে এই কর্মসূচি বৈশ্বিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবেই রয়ে যাবে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জ: আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কতটা প্রভাব?
