যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন ঘটেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে আলোচনা চলছে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক বার্তায় তেহরানের প্রতি রাশিয়ার দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ঘনিষ্ঠ অংশীদার এবং ভবিষ্যতেও সেই সম্পর্ক বজায় থাকবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এমন এক সংকটময় সময়ে নতুন নেতার দায়িত্ব নেওয়া বড় সাহস ও আত্মত্যাগের বিষয়, কারণ দেশটি বর্তমানে বহুমুখী চাপ ও সামরিক উত্তেজনার মুখে রয়েছে। অন্যদিকে চীনও বিষয়টিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ইরান তাদের নিজস্ব সংবিধান অনুসরণ করেই নেতৃত্ব নির্বাচন করেছে এবং অন্য কোনো দেশের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মান দেখানো জরুরি। এদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কঠোর হুমকিও সামনে এসেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সতর্ক করে বলেন, যদি ইরানের নতুন নেতৃত্ব আগের নীতির ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হুমকি বা আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা চালিয়ে যায়, তবে সেই নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে, তিনি যেখানেই থাকুন না কেন। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন যে, ইরানের নতুন নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতা বিবেচনায় না নিলে তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হতে পারে। পুরো পরিস্থিতিকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
