ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে প্রায় ২ হাজার ইসরায়েলি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে মোট ১,৯২৯ জন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২২ জন এখনও চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে ধরা হয়েছে। শুধু শেষ ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ১৫৭ জনকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়মিত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্য প্রকাশ করছে। তারা জানিয়েছে, ‘প্রাপ্ত হুমকিগুলো প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।’ তবে ইরানি হামলার সঠিক ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। কিছু স্থানে গণমাধ্যমের কার্যক্রম সীমিত রাখা হয়েছে, এবং ধ্বংসযজ্ঞের ছবি-ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে আটকও করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘আগাম আত্মরক্ষামূলক’ অভিযানের নামে ইরানে হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরায়েলের তেল আবিব, জেরুজালেমসহ বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। যেহেতু এই অঞ্চলে বিশ্বের বেশিরভাগ জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ অবস্থিত, তাই বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাও এখন হুমকির মুখে পড়েছে।