ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোর ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত বোমারু বিমান পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪৬ ফুট দীর্ঘ মার্কিন বি–১ ল্যান্সার বোমারু বিমানটি শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে অবতরণ করে।
এই বিমানটি একসঙ্গে বহু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম এবং দূরপাল্লার আক্রমণ পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেন। এই ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ পেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে শুরুতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে তিনি অনীহা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়।
সামরিক বিশ্লেষক জাস্টিন ক্রাম্পের মতে, বি–১ ল্যান্সার বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বোমারু বিমানের মধ্যে একটি। এই বিমানটি দ্রুত গতিতে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এবং একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বহন করার ক্ষমতা রাখে। তার ভাষায়, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে অভিযান পরিচালনা করা সামরিকভাবে বেশ কার্যকর হতে পারে।
এদিকে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। শনিবার এ সংঘাত অষ্টম দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাতভর ইরানের রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
অন্যদিকে সাইপ্রাসে অবস্থিত আরএএফ আক্রোটিরি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্য কিছু সমালোচনার মুখে পড়ে। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, হামলায় সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ নৌবাহিনী ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি রয়্যাল নেভির দুটি ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার সাইপ্রাসে পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।