ইরান থেকে তুরস্কের দিকে নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটি ধ্বংস করেছে বলে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়—ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরান থেকে ছোড়া হয়ে ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করে তুরস্কের দিকে এগোচ্ছিল। সতর্কতার অংশ হিসেবে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সক্রিয় হয়ে সেটি ভূপাতিত করে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির লক্ষ্যবস্তু এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তুরস্ক জানিয়ে দিয়েছে, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার অধিকার তারা রাখে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় তুরস্কের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। ফিদান সতর্ক করে বলেছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যা চলমান উত্তেজনাকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।
ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্টও তুরস্ককে লক্ষ্য করে ইরানের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সহ সব ক্ষেত্রে ন্যাটোর প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
ইনসিরলিক বিমানঘাঁটির গুরুত্ব
ইনসিরলিক বিমানঘাঁটি তুরস্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। এটি তুর্কি বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবহার করা হয়। ঘাঁটিটি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে ইনসিরলিক একটি প্রধান আকাশ সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীতে ইরাক ও আফগানিস্তানে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানের জন্য এটি কার্গো ও লজিস্টিক হাব হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আক্রমণের সময় তুরস্ক এই ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। তবে ২০১৪ সাল থেকে আইএসআইএল বিরোধী অভিযানে ঘাঁটিটি আবারও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার হচ্ছে। আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ন্যাটোর সরাসরি প্রতিরক্ষা সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।