আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষত ইরানের আশেপাশে সামরিক সংঘাত দ্রুতই জটিল রূপ নিচ্ছে, যার প্রভাব তেলের বাজারেও পড়ছে। বাণিজ্যিক সূত্র বলছে, সম্ভাব্য বিঘ্ন এড়াতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতিমধ্যেই রপ্তানি বাড়াতে শুরু করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে, রোববার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ওপেক প্লাস জোট তেলের উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এপ্রিল থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে—যা পূর্বে নির্ধারিত ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেলের পরিকল্পনার প্রায় তিনগুণ। এছাড়া, বাজার আরও অস্থির হলে এই বৃদ্ধি দৈনিক ৫ লাখ ৪৮ হাজার ব্যারেল পর্যন্তও উঠতে পারে।
যদি এই উৎপাদন বৃদ্ধি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ওপেক প্লাসের নীতি ও অবস্থানে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাবে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে চাহিদা কম এবং আগের অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে উৎপাদন বাড়ানো স্থগিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ফলে অঞ্চল জুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জোট সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার দিকে ঝুঁকছে, মূল্য নিয়ন্ত্রণের মূল কৌশল থেকে কিছুটা সরে আসছে।
এতদিনেও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত রপ্তানি বাড়াচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রায় তিন বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এপ্রিল থেকে আমিরাতের মুরবান ক্রুড রপ্তানি বাড়ছে, আর ইরাক, কুয়েত ও আমিরাতের যৌথ রপ্তানিও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে।
তবে বিশ্ব তেলের বাজার এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয়। ইরান দৈনিক প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে এবং এর মধ্যে ২০ লাখ ব্যারেল রপ্তানি হয়, যার বড় অংশ চীনে যায়। ইরানের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে সম্প্রতি বিস্ফোরণের খবর এসেছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যেখানে বিশ্বব্যাপী তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
এছাড়া, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ইসরায়েল সাময়িকভাবে সমুদ্র উপকূলীয় গ্যাসক্ষেত্র বন্ধ করেছে। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে নরওয়েজীয় কোম্পানি ডিএনও উৎপাদন স্থগিত রেখেছে। এর ফলে আঞ্চলিক জ্বালানি উৎপাদন কত দ্রুত ব্যাহত হতে পারে, তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওপেক প্লাস জোট সরবরাহ বৃদ্ধি করে বাজারকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে, যাতে বৈশ্বিক অস্থিরতা আরও না বাড়ে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঝুঁকি এখনও উঁচুতে রয়ে গেছে।
এই অবস্থায় রোববারের বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্বের হয়ে উঠেছে। জোটকে রাজস্ব লক্ষ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, যা তাদের জন্য কঠিন এক পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।