জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ক্ষমতায় ফেরার পর তার জনসমর্থন এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
চার দিনব্যাপী পরিচালিত এই জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৬ শতাংশ মানুষ তার দায়িত্ব পালনের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। এর আগে এক সপ্তাহ আগে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে তার জনপ্রিয়তায় স্পষ্টভাবে ধস নেমেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এতে সরকারের প্রতি মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ কার্যকর হয়েছে।
অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায়ও ট্রাম্পের প্রতি মানুষের আস্থা কমে গেছে। মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ তার অর্থনৈতিক নীতির ওপর বিশ্বাস রেখেছেন, যা তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সর্বনিম্ন হার। এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট Joe Biden-এর সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তার চেয়েও এটি কম। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিই এ অসন্তোষের প্রধান কারণ।
নিজ দলের মধ্যে ট্রাম্পের অবস্থান এখনো মোটামুটি শক্তিশালী থাকলেও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে রিপাবলিকানদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
ক্ষমতায় আসার আগে ট্রাম্প বিদেশি যুদ্ধ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ইরানকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা তার সেই অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমেরিকান ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদে দেশের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে দুর্বল বলে মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ডেমোক্র্যাটদের জন্য ভবিষ্যৎ নির্বাচনে একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। তারা এখন অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভিবাসন ইস্যুতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে এখনো অনেক ভোটার অর্থনীতি ও আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের প্রতি আস্থা রাখছেন।
দেশব্যাপী অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে এক হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান অংশগ্রহণ করেন। এতে সম্ভাব্য ত্রুটির হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ