উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি তার দেশের পারমাণবিক নীতি সঠিক প্রমাণ করেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের জন্য যে চাপ ও কূটনৈতিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।
মঙ্গলবার দেশটির আইনসভা ‘সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি’-তে দেওয়া ভাষণে কিম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন বিভিন্ন দেশে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সংঘাত উসকে দিচ্ছে।
কিম জং উনের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা স্পষ্ট করে দেয়—যেসব রাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন, তারা বড় শক্তিগুলোর সামরিক চাপের সামনে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে, যেসব দেশের কাছে পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে, তারা নিজেদের নিরাপত্তা অনেক বেশি নিশ্চিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া এখন একটি প্রতিষ্ঠিত পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র, এবং এই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আমেরিকার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও এর কিছুদিন আগেই তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও দৃঢ় করেছে। পিয়ংইয়ং মনে করে, পারমাণবিক অস্ত্রই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ঢাল।
এদিকে কিম জং উনের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র আবারও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরু করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১৯ সালে ভেস্তে যাওয়া আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে কিমের সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে কোনো বৈঠক হলেও তা আগের মতো সহজ হবে না। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের প্রতি বৈরী নীতি পরিবর্তন করতে হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া নতুন নতুন সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম রকেটের মহড়া।