শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েল-এর দিমোনা ও আরাদ শহরে ইরান-এর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো শহর দুটিতে আঘাত হানে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সেনাবাহিনীর প্রধান ইয়াল যামির ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইসরায়েল তার শত্রুদের বিরুদ্ধে সবগুলো ফ্রন্টে একযোগে অভিযান চালিয়ে যাবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এই হামলার লক্ষ্য ছিল দিমোনার নিকটে অবস্থিত শিমন পেরেজ নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার, যা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যদিও ইসরায়েল সরকার এ বিষয়ে কখনও স্পষ্ট স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি দেয়নি। জানা গেছে, একই দিনে ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, আকাশ ভেদ করে দ্রুতগতিতে নেমে আসা ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের মাধ্যমে আবাসিক এলাকায় আঘাত হানছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবহৃত মিসাইলগুলোতে কয়েকশ কেজি বিস্ফোরকসমৃদ্ধ প্রচলিত ইরানি ওয়ারহেড ছিল।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে, অধিকাংশ মানুষ স্প্লিন্টারের আঘাতে অথবা আশ্রয়ের দিকে ছুটতে গিয়ে আহত হয়েছেন। একাধিক স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনাও দেখা গেছে। সংস্থাটির প্যারামেডিক কারমেল কোহেন জানান, ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
নিকটবর্তী বিরশেবা শহরের সোরোকা মেডিক্যাল সেন্টার-এ গুরুতর আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আরাদ শহরেও একই ধরনের হামলায় বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন।
প্রাথমিকভাবে ৭১ জনকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর, কিছু মাঝারি এবং বাকিরা সামান্য আহত বলে জানা গেছে। উদ্ধারকাজে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ড্রোনচিত্রে বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসের চিত্র উঠে এসেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কেন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।