লেবানন–ইসরায়েল সীমান্তে চলমান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ ঘটনায় লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান অভিযানের জবাব হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, মধ্য ইসরায়েলে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Israel Aerospace Industries–এর (আইএআই) সদর দপ্তর লক্ষ্য করে একাধিক আক্রমণাত্মক ড্রোন পাঠানো হয়। সংস্থাটি ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর জন্য ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে উত্তর ইসরায়েলের একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ স্থাপনাতেও নির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী হামলার দাবি করেছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে (আইডিএফ) জানায়, লেবানন সীমান্ত থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে আগুন ও ধোঁয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্নমত রয়েছে, ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনার ঘোষণা দিলেও সংগঠনটি তাদের অভিযান অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এদিকে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংযমের আহ্বান জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কড়া বক্তব্য ও সামরিক প্রস্তুতি সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার দাবি ইঙ্গিত দেয় যে সীমান্তের বাইরে কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত হানার সক্ষমতা নিয়ে নতুন বার্তা দিতে চাচ্ছে হিজবুল্লাহ। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখনো অনিশ্চিত; তবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি