ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এক সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সম্ভাব্য ভৌগোলিক সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ধর্মীয় ব্যাখ্যার আলোকে ইহুদি জনগণের ভূমিগত অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বলেন, পরিস্থিতি বিশেষে ইসরায়েলের ভূখণ্ড সম্প্রসারণের প্রশ্ন আলাদা আলোচনার বিষয় হতে পারে।
এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের সীমানা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি উল্লেখ করেন যে, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সূত্রে ইসরায়েলের ভূখণ্ডের ধারণা ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। আলোচনায় বাইবেলের একটি বর্ণনার প্রসঙ্গও উঠে আসে, যেখানে আব্রাহামের বংশধরদের জন্য ইউফ্রেটিস নদী থেকে নীল নদ পর্যন্ত ভূমির উল্লেখ রয়েছে। এ অঞ্চল বর্তমান লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরবের কিছু অংশকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
উক্ত মন্তব্যের পর উপস্থাপক জানতে চান, তিনি কি বাস্তবিক অর্থে এত বিস্তৃত অঞ্চল দখলের পক্ষে। জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইসরায়েল দখল চায়—এমন বক্তব্য তিনি সরাসরি দিচ্ছেন না। তবে যদি কোনো অঞ্চল থেকে হামলা হয় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিবেচিত হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। পরে তিনি তার আগের বক্তব্যকে কিছুটা অতিরঞ্জিত হিসেবেও উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানতে চাইলে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক আইনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে রাষ্ট্রগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং বলপ্রয়োগ করে ভূখণ্ড দখল না করার নীতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের উপস্থিতিকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বন্ধের আহ্বান জানায়।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সীমানা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নির্ধারিত নয় বলে বিশ্লেষকদের মত রয়েছে। সিরিয়ার গোলান মালভূমি ১৯৮১ সালে ইসরায়েল সংযুক্ত করে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ হিসেবে এ অঞ্চলে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সম্প্রতি লেবাননের ভেতরে কয়েকটি স্থানে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির খবরও প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক নেতা ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ ধারণার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অতীতে একটি মানচিত্র প্রদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি হয়, যেখানে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের অংশ ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত আন্তর্জাতিক আইন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছে এবং তাদের প্রভাব সীমিত করার চেষ্টা করছে।
রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কিছু মার্কিন নাগরিকের বিষয়ে তার অবস্থান নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক জনাথন পোলার্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। পোলার্ড দীর্ঘ কারাভোগের পর ইসরায়েলে বসবাস শুরু করেন। এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি পোলার্ডের সব মতের সঙ্গে একমত নন, তবে নির্ধারিত একটি বৈঠকে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং এ নিয়ে তার অনুশোচনা নেই।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।