ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান উত্তেজনা ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক-এর কূটনৈতিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে আগামী মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত এটি বহাল থাকবে। তিনি বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ ও সদিচ্ছার প্রতিফলন হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে পাকিস্তান স্পষ্ট করে দিয়েছে, সীমান্তে কোনো ধরনের হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা দেশের ভেতরে সন্ত্রাসী তৎপরতা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে আরও কঠোর সামরিক জবাব দেওয়া হবে।
এর কিছুক্ষণ পরই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র জানান, তারাও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবে।
এর আগে কাবুল-এ একটি মাদক নিরাময়কেন্দ্রে হামলায় বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় আফগানিস্তান পাকিস্তানকে দায়ী করেছিল। যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তাদের অভিযান কেবল সন্ত্রাসী ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে।
জাতিসংঘ জানায়, ওই হামলায় অন্তত ১৪৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে, যদিও এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে এটি সবচেয়ে তীব্র সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সীমান্ত এলাকায় তালেবান বাহিনীর পাল্টা অভিযানের পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তালেবান দাবি করে, পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নেয়।
এদিকে কাতার এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে একে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটি আশা প্রকাশ করেছে, এই বিরতি ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথ তৈরি করবে এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।