মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগর এলাকায় প্রায় ২০ হাজার নাবিক বিভিন্ন জাহাজে আটকে পড়েছেন। একই সঙ্গে এসব জাহাজে থাকা প্রায় ১৫ হাজার যাত্রীও বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং নাবিক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। সংস্থাটির মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেন, এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন সমুদ্রপথে কর্মরত নিরীহ নাবিকরা।
আইএমওর তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলরত জাহাজগুলোতে অন্তত সাতটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও সাতজন।
মহাসচিব ডোমিঙ্গেজ এই ঘটনাগুলোকে উদ্বেগজনক মানবিক পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সমুদ্রে কর্মরত সাধারণ নাবিকদের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তিনি শিপিং কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলের সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরানের সামরিক পদক্ষেপের কারণে হরমুজ প্রণালির চলাচল কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।