গতি ও বাউন্সের দাপটে একের পর এক উইকেট তুলে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে ভেঙে দেন নাহিদ রানা। তার দুর্দান্ত বোলিং স্পেলের পর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও বল হাতে দারুণ ভূমিকা রাখেন। তাদের যৌথ নৈপুণ্যে একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তান তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন রানে অলআউট হয়।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাত্র ৩০.৪ ওভার ব্যাট করে পাকিস্তান থেমে যায় ১১৪ রানে। এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে একদিনের ক্রিকেটে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ১৬১। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে ২২৪ রান তাড়া করতে গিয়ে তারা ১৬১ রানে অলআউট হয়েছিল। পরে ২০১১ সালে চট্টগ্রামে এক দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান ১৭৭ রান করেছিল, এবং সেই ম্যাচে তারা জয়ও পেয়েছিল।
পাকিস্তানকে দ্রুত গুটিয়ে দিতে নাহিদ রানা টানা সাত ওভার বোলিং করে মাত্র ২৪ রানে পাঁচটি উইকেট নেন। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ২৯ রানে তিনটি উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান একটি করে উইকেট শিকার করেন।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতে কিছুটা সতর্ক ছিল। প্রথম পাওয়ার প্লের বেশিরভাগ সময় তারা ধীরে ধীরে রান তুলছিল। তবে নাহিদ রানার প্রথম স্পেলেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। তার প্রথম ওভারের শেষ বলে আসে প্রথম সাফল্য।
অফ স্টাম্পের বাইরে করা বল কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে সহজ ক্যাচ দেন অভিষিক্ত ব্যাটার শাহিবজাদা ফারহান। এরপর ধীরে ধীরে চাপ বাড়তে থাকে পাকিস্তানের ওপর। আরেক অভিষিক্ত ব্যাটার শামিল হোসেন শুরুতে একটি জীবন পেলেও পরে ক্যাচ তুলে আউট হন। অন্য ওপেনার মাজ সাদাকাত শর্ট বলে পরাস্ত হন এবং তার ক্যাচ লুফে নেন সাইফ হাসান।
দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। নাহিদের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে তিনি উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দেন। পরে সালমান আলি আঘা শরীরের দিকে উঠে আসা বলে অস্বস্তিতে পড়ে ব্যাটে লাগিয়ে ফেলেন, আর তানজিদ হাসান তামিম দারুণ প্রতিক্রিয়ায় সেই ক্যাচটি তালুবন্দি করেন।
এরপর মিরাজের ঘূর্ণিতে আরও বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। অভিষিক্ত আব্দুল সামাদ আউট হলে দলটির ছয় উইকেট পড়ে যায় ৭০ রানে। পরের ওভারে হোসেইন তালাত এলবিডব্লিউ হলে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় সাত উইকেটে ৭৭ রান।
অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি নামার পর একটি চার মারলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তিনিও মিরাজের শিকার হন। তখন পাকিস্তানের আট উইকেটে সংগ্রহ ৮১ রান। এরপর আর মাত্র এক রান যোগ হতেই নবম উইকেটের পতন ঘটে। মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন।
শেষ দিকে ফাহিম আশরাফ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ৪৭ বলে ৩৭ রান করেন এবং দলকে একশ রানের ঘর পার করান। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংসের ইতি টানেন মোস্তাফিজুর রহমান।
ওয়ানডেতে নাহিদের প্রথম পাঁচ শিকার, পাকিস্তানকে ১১৪ রানে গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ
