২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত গ্রিসে ৪৮০,০০০-এর বেশি ভেড়া ও ছাগল হত্যা করা হয়েছে, যাতে বসন্তকালীন ছড়ানো প্রাণঘাতী রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। খামারিরা জানিয়েছেন, এই ব্যাপক গবাদি পশু হত্যার ফলে মাংস ও দুধের উৎপাদন কমেছে এবং এর কারণে গ্রিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য ফেটা পনির হুমকির মুখে পড়েছে।
গ্রিসের উচ্চমানের পনির শিল্প মূলত গ্রামীণ মেষপালকদের ঘরে ঘরে থাকা ভেড়া ও ছাগলের দুধের উপর নির্ভরশীল। গণহারে গবাদি পশু হত্যার কারণে অনেক গ্রিক মেষপালক সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এবং একই সঙ্গে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন শিল্পের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এ বিষয়ে খামারি কস্তাস থিওফিলোউ এএফপির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি শূন্য দৃষ্টিতে খালি আস্তাবলের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তিনটি পরিবারের জীবিকা এই প্রাণীদের উপর নির্ভর করত। দেখুন তারা আমার কত ক্ষতি করেছে। ৫৫ বছর বয়সে আমি এখন নতুন করে কি কাজ করব?”
একসময় তার খামার ভেড়ার ‘ম্যা-ম্যা’ ডাক এবং তাদের গলায় ঝুলানো ঘণ্টার শব্দে মুখরিত থাকলেও এখন পুরো খামারে অদ্ভুত নীরবতা নেমে এসেছে। মেষপালকের নিত্যসঙ্গী কুকুরগুলোও এখন মনমরা হয়ে ঘুরছে। থিওফিলোউ আরও বলেন, “আমি আজীবন মেষপালকের কাজ করেছি। অন্য কোনো কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। আমি শুধু ভেড়াই চিনি।”
ফেটা পনির উৎপাদনের প্রায় ৪৫ শতাংশ থেসালি অঞ্চলে হয়, যা মূলত ভেড়া ও ছাগলের দুধ থেকে তৈরি হয়। বসন্তকালীন মহামারি পনির উৎপাদনকে বড়ভাবে প্রভাবিত করেছে। পনির উৎপাদনকারীরা জানিয়েছেন, এ বছর দুধের উৎপাদন ৪০ শতাংশ কমে গেছে।
রোগটি যাতে ছড়াতে না পারে, এজন্য কর্তৃপক্ষ গবাদি পশু মালিকদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, আগের মতো পশুদের খোলা মাঠে চরে বেড়ানো যাবে না। শুধু যেসব খামারির নিজস্ব চারণভূমি আছে, তারা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। বাকিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, পশুদের খামারে রাখার সঙ্গে খাবারের ব্যবস্থা করতে।
৫৯ বছর বয়সী খামারি জর্জস জেনিটাইডিস জানিয়েছেন, “৯ সেপ্টেম্বরের পর থেকে আমি প্রাণীদের খামার থেকে বের করিনি।” সাম্প্রতিক শীতল আবহাওয়া মহামারির প্রকোপ কিছুটা কমিয়েছে। অনেক খামারি তাদের পশুদের বুলগেরিয়া ও তুরস্ক থেকে আনা টিকা দিচ্ছেন। যদিও গ্রিসে এসব টিকা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তবুও খামারিরা জীবন ও জীবিকা বাঁচাতে ঝুঁকি নিচ্ছেন।
গ্রিসে ২ বছরে প্রায় ৫ লাখ গবাদি পশু হত্যা
