কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, দেশজুড়ে চলমান শীতল আবহাওয়া আগামী শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, রোববার থেকে শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহ ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত অথবা ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি সময়কালে স্থায়ী হতে পারে।সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে দুপুর ২টায় প্রাপ্ত কুয়াশার চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে—দেশের মোট ৬১টি জেলার ওপর মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা বিরাজ করছে। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণাংশ, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার কুয়াশা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি আরও জানান, অধিকাংশ জেলায় দুপুর ৩টার আগেও সূর্যের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম এবং অনেক এলাকায় সারাদিনই সূর্য দেখা নাও যেতে পারে। আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী চার দিন দেশব্যাপী কুয়াশা ও শীতের প্রকোপ একই রকম থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।নৌপথে সতর্কতা
আজ রাত থেকে শুরু করে সারাদিন এবং সন্ধ্যার পর দেশের প্রায় সব নদ-নদীর ওপর মাঝারি থেকে অত্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। ফলে নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানকে গতি নিয়ন্ত্রণ করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পদ্মা, যমুনা, তিস্তা ও মেঘনা নদীতে কুয়াশার ঘনত্ব বেশি থাকতে পারে। সড়কপথে সতর্কতাআজ সন্ধ্যা ৭টার পর রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার ওপর ঘন থেকে খুব ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগের সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনকে ধীরগতিতে এবং বাড়তি সতর্কতা নিয়ে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়–রংপুর–বগুড়া–সিরাজগঞ্জ–টাঙ্গাইল–ঢাকা মহাসড়কে কুয়াশার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে।শৈত্যপ্রবাহের সর্বশেষ অবস্থা মোস্তফা কামাল পলাশের মতে, দেশজুড়ে চলমান শীতল পরিস্থিতি শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের একাধিক জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়েযাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অঞ্চলে ভোর ৬টার দিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।এদিকে বিডব্লিউওটি তাদেরফেসবুকবার্তায়জানিয়েছে, শৈত্যপ্রবাহ ‘কনকন’ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকতে পারে। পাশাপাশি রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগসহ গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর অঞ্চলেও শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে।অন্যদিকে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে। যদিও উপকূলীয় অঞ্চল, ঢাকা শহর, কক্সবাজার, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে শীত অনুভূত হবে, তবে সেখানে শৈত্যপ্রবাহ খুব বেশি সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা নেই।
বিডব্লিউওটির তথ্যমতে, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, পাবনা, বগুড়া, নাটোর, নড়াইল, যশোর,ফরিদপুর,গোপালগঞ্জ, মাগুরা ও রাজবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। এসব অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত আগেই শুরু হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
চলমান শৈত্যপ্রবাহ কতদিন থাকবে?
