ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থলসংযোগ হলো শিলিগুড়ি করিডর, যা ঐতিহাসিকভাবে ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। এই করিডরের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ২১ কিলোমিটার। আশপাশে রয়েছে চারটি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত—চীন, নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশ। ভৌগোলিক এই বাস্তবতা ভারতের নিরাপত্তা ভাবনায় দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই শিলিগুড়ি করিডরের মাধ্যমেই ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ বজায় রয়েছে। করিডরটি অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় ভারতীয় নীতিনির্ধারক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা রয়েছে—যদি কোনোভাবে এই অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলে ওই রাজ্যগুলো ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে ভৌগোলিকভাবে আলাদা হয়ে পড়বে।
সম্প্রতি এই করিডর নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ভারতের পরিচিত আধ্যাত্মিক বক্তা জাগ্গি বাসুদেব, যিনি সাধগুরু নামেই বেশি পরিচিত। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শিলিগুড়ি করিডর ভারত বিভাজনের ফল হিসেবে সৃষ্ট প্রায় আট দশকের পুরোনো এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি, যা অনেক আগেই সংশোধন করা উচিত ছিল।তার বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতিযখন প্রকাশ্য হুমকি তৈরি হচ্ছে, তখন ‘চিকেনস নেক’কে শক্তিশালী করে বড় পরিসরে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে। তিনি এই করিডরকে রূপক অর্থে ‘হাতি’তে পরিণত করার কথা বলেন, যাতে এটি আর দুর্বল সংযোগ হিসেবে না থাকে।সাধগুরু ঠিক কোন দেশ বা পক্ষকে ভারতেরসার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না বললেও তিনি ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটের উল্লেখ করেন। তার মতে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে ভারতের হাতে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগ ছিল, কিন্তু সে সময় তা কাজে লাগানো হয়নি। এখন এই করিডর নিয়ে আলোচনা বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কোনো জাতি দুর্বল অবস্থায় থেকে শক্তিশালী হতে পারে না। শক্তি অর্জনের জন্য প্রয়োজন হলে বাড়তি প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও মূল্য পরিশোধ করতেও প্রস্তুত থাকতে হয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিটি সিদ্ধান্তেরই একটি খরচ থাকে—এ কথাও তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখযোগ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্নইস্যুতেকূটনৈতিক টানাপোড়েন বৃদ্ধি পেয়েছে। চব্বিশের জুলাইগণঅভ্যুত্থানের পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত দিয়ে নাগরিকদের জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানো, গুলিবর্ষণের ঘটনা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা।
এছাড়া ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কিছু নেতার বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ, পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো (প্রত্যর্পণ) ইস্যুও দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
চিকেনস নেককে ‘হাতিতে’ পরিণত করার হুমকি ভারতীয় আধ্যাত্মিক গুরুর
