চীনের রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং বলেছেন, চীন ও তাইওয়ান–এর পুনরেকত্রীকরণ অনিবার্য এবং এই প্রক্রিয়াকে কেউ রোধ করতে পারবে না। দ্বীপটিকে কেন্দ্র করে দুই দিনব্যাপী সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার পর ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।৩১ ডিসেম্বর দেওয়া ওই ভাষণে শি জিনপিং উল্লেখ করেন, তাইওয়ান প্রণালীর দুই পাড়ের মানুষ একই রক্ত ও আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ। তাঁর ভাষায়, মাতৃভূমির পুনরেকত্রীকরণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই ঐতিহাসিক বাস্তবতাকেঠেকানোর কোনো শক্তি নেই। এর আগে ২৯ ডিসেম্বর বেইজিং ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে দুই দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করে। এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয় এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র তাইপের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে তাদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে দেখে আসছে। বিপরীতে, তাইপে কর্তৃপক্ষ ১৯৪৯ সাল থেকে নিজেদের স্বতন্ত্র ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে আসছে। শি জিনপিং তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব গভীর পরিবর্তন ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও যুদ্ধ চলমান। তিনি দাবি করেন, চীন সবসময় ইতিহাসের ন্যায্যঅবস্থানে দাঁড়িয়েছে এবং বিশ্ব শান্তি, উন্নয়ন ও মানবজাতিরঅভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। উল্লেখযোগ্যভাবে, তাইওয়ান ইস্যুকে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সানায়ে তাকাইচি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি যুদ্ধের দিকে গেলে জাপান সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পর এশিয়ার দুই বড় অর্থনীতির মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত এই উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
চীন ও তাইওয়ানের এক হওয়া কেউ ঠেকাতে পারবে নাঃ শি জিনপিং
