নামে, শক্তিতে ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় চীনের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে বাংলাদেশ। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের ব্যবধান বড়। তবু মাঠের লড়াইয়ে সেই ব্যবধান খুব একটা চোখে পড়েনি। ঋতুপর্ণা চাকমা ও আফঈদা খন্দকারদের দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাসী ফুটবল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনকে দীর্ঘ সময় চাপে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত পিটার বাটলারের অধীনে বাংলাদেশ ২-০ গোলে হারলেও পারফরম্যান্সে তারা সমীহ আদায় করেছে।
মঙ্গলবার সিডনিতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ শুরু থেকেই সাহসী ফুটবল উপহার দেয়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুই গোল হজম করলেও বাকি সময়টায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা সংগঠিত ও লড়াকু ছিল। ঋতুপর্ণা চাকমা এক পর্যায়ে দারুণ এক সুযোগ তৈরি করেন, যা গোল হলে ম্যাচের চিত্র ভিন্নও হতে পারত। প্রথমার্ধে চীনের পক্ষে গোল করেন ওয়াং শুয়াং ও ইয়াং রুই।
ম্যাচের শুরুতেই চীন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে। ১১ মিনিটে অসাধারণ দক্ষতায় বাংলাদেশকে নিশ্চিত বিপদ থেকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার। ১৪ মিনিটে ঋতুপর্ণা দূরপাল্লার জোরালো শট নিলে চীনের গোলরক্ষক তা প্রতিহত করেন চমৎকার ক্ষিপ্রতায়। ১৯ মিনিটে আরেকটি সুযোগ তৈরি করেও গোল পায়নি চীন। মিলিকে কাটিয়ে উঠলেও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন তাদের ফরোয়ার্ড।
২০ মিনিটের মাথায় মিলি আবারও দুর্দান্ত সেভ করেন। ২৪ মিনিটে ওয়াং শুয়াং বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। তবে বিরতির ঠিক আগে ৪৪ মিনিটে দূর থেকে নেওয়া শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। পরের মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইয়াং রুই।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোলের লিড নিয়ে মাঠে নামলেও বাংলাদেশ রক্ষণভাগকে আরও দৃঢ় করে তোলে। মিলি আক্তার গোলবারের নিচে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। নবিরন ও আফঈদারা রক্ষণে সর্বোচ্চ চেষ্টা দেন। চীনের বেশ কিছু শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় ব্যবধান আর বাড়েনি।
ম্যাচের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। গোল না পেলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের এই লড়াকু মানসিকতা সমর্থকদের আশা জাগিয়েছে।
হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হলেও নয়বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এমন দৃঢ় পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা হয়ে থাকবে।
চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে লড়াই করে হারল বাংলাদেশ
