ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশিতে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিল-এ উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী নকশবন্দী মুজাদ্দেদী (কু:ছে: আ:)-এর বার্ষিক ওরস শরিফ আগামীকাল মঙ্গলবার,১৩ জানুয়ারি, আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে।গত ১০ জানুয়ারি ফজরের নামাজের পর থেকে শুরু হওয়া এই ওরসে প্রতিদিন লাখো ভক্ত ও আশেকান শরিক হয়েছেন। শেষ দিনে ফজরের সময় ভক্তরা খাজাবাবা (কু. ছে. আ.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করবেন। এরপর অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত, যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ, শান্তি এবং সকল প্রকার বালা-মুসিবত থেকে রক্ষার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে বিশেষ দোয়া করা হবে।ওরস উপলক্ষে বিশাল লঙ্গরখানার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের তথ্যমতে, প্রায় তিন হাজার চুলায় একসঙ্গে রান্না হয়, যেখানে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় দুই লাখ মানুষের জন্য খাবার প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে। এই মহাযজ্ঞে প্রায় ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। চার দিনে আনুমানিক দেড় কোটি মানুষ এই লঙ্গরের খাবার গ্রহণ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।আয়োজকরা জানান, আখেরি মোনাজাতে অন্তত ৩০ লাখ মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। মোনাজাত শেষে ভক্তবৃন্দ নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হবেন। ওরস উপলক্ষে পুরো বিশ্ব জাকের মঞ্জিল এলাকা নান্দনিক সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। প্রবেশপথে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ, স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য প্ল্যাকার্ড ও আল্লাহু আকবার খচিত পতাকা। জামে মসজিদসহ সকল স্থাপনায় নতুন রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে এবং সাদা এলইডি আলোর ঝলমলে আলোকসজ্জায় পুরো এলাকা হয়ে উঠেছে অপরূপ।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোটা এলাকা ঘিরে স্থাপন করা হয়েছে অর্ধশতাধিক পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, নিরাপত্তা চৌকি ও সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য মূল এলাকার বাইরে বিশাল পার্কিং সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্তদের আবাসনের জন্যও বিস্তৃত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
