নতুন গেজেট অনুযায়ী মসজিদের বিভিন্ন পদে কর্মরত জনবলের জন্য একটি সুসংগঠিত ও মর্যাদাপূর্ণ গ্রেড কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মীর সামাজিক মর্যাদা ও দায়িত্ববোধ আর ও সুস্পষ্ট করা হয়েছে। পদভিত্তিক গ্রেড কাঠামোনির্ধারিত গেজেট অনুসারে মসজিদের জনবলের গ্রেডগুলো হলো—সিনিয়র পেশ ইমাম: ৫ম গ্রেডপেশ ইমাম: ৬ষ্ঠ গ্রেডইমাম: ৯ম গ্রেড
মুয়াজ্জিন:প্রধান মুয়াজ্জিন – ১০ম গ্রেডসাধারণ মুয়াজ্জিন – ১১তম গ্রেড খাদিম:প্রধান খাদিম – ১৫তম গ্রেড
সাধারণ খাদিম – ১৬তম গ্রেড অন্যান্য কর্মী:নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী – ২০তম গ্রেডতবে খতিবদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাঁদের সম্মানী বা বেতন নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী। আচরণবিধি ও নৈতিক দিকনির্দেশনা
শুধু বেতন কাঠামোই নয়, মসজিদের জনবলের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ শৃঙ্খলাবিধিও যুক্ত করা হয়েছে। গেজেটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা:
মসজিদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো রাজ-
নৈতিক দলের সক্রিয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না।নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব:ইমাম ও খতিবদের দায়িত্ব হবে মুসল্লি ও স্থানীয় সমাজের নৈতিক চরিত্র গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।কর্মস্থলে শৃঙ্খলা:অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা দায়িত্বস্থল ত্যাগ করা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে। বেতন প্রদান করবে কে?এই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। গেজেট অনুযায়ী বাস্তবায়নের ধরন হলো—সরকারি ও মডেল মসজিদসরকার কর্তৃক সরাসরি পরিচালিত মসজিদ—যেমন বায়তুল মোকাররম, আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদ—এবং সারাদেশে নির্মিত ৫৬০টি মডেল মসজিদে কর্মরত ইমাম ও মুয়া-
জ্জিনরা সরাসরি সরকারি তহবিল অথবা ইসলামিক ফাউন্ডেশন–এর মাধ্যমে এই স্কেলে বেতন পাবেন। বে-
সরকারি বা স্থানীয় মসজিদপাড়া-মহল্লা কিংবা গ্রাম-
ভিত্তিক মসজিদগুলোর ক্ষেত্রে এই গেজেট একটি আদর্শ নির্দেশিকা হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব মসজিদে বেতন প্রদানের দায়িত্ব স্থানীয় কমিটির হাতেই থাকবে, তবে সরকার এই কাঠামো অনুসরণে কমিটিগুলোকে উৎসাহিত করছে। চাকরিজনিত। বিরোধ নিষ্পত্তিচাকরি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অথবা সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আপিল করতে পারবেন।এ ছাড়া নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।