কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন শুক্রবার জামায়াত-ই-ইসলামীকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, এই সংগঠনটি ও হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো “একই প্রকৃতির” এবং তাদের মনোভাব প্রায় অভিন্ন।
এর্নাকুলাম প্রেস ক্লাবে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিজয়ন অভিযোগ করেন, কংগ্রেস শুধু রাজনৈতিক সুবিধার জন্য জামায়াত-ই-ইসলামীর সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এক জোট করেছে, যা তার মতে একটি “বিপজ্জনক ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।” তিনি বলেন, কেরালার মুসলিম সমাজ নানা উপগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত—সুন্নি, মুজাহিদসহ আরও অনেক ধারার অনুসারী আছেন—এবং তাদের বড় অংশই জামায়াত-ই-ইসলামীকে স্বীকৃত সংগঠন হিসেবে দেখে না। তাই ইউডিএফ-এর ভোটাররাও এ ধরনের মতাদর্শ গ্রহণ করবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। কংগ্রেসের সঙ্গে জামায়াতের জোটকে তিনি “অপবিত্র সমঝোতা” হিসেবে অভিহিত করেন।
বিজয়ন আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক ইসলামপন্থী গোষ্ঠী এবং হিন্দুত্ববাদী শক্তি—উভয়েই ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহী। তার মতে, এই চিন্তাধারা ফ্যাসিবাদী নেতাদের—মুসোলিনি ও হিটলারের ভাবনার সঙ্গে মিল রয়েছে। তিনি আবুল আ’লা মওদুদীর লেখার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জামায়াত-ই-ইসলামী ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশেরমুসলমানদের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি করেছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওয়েলফেয়ার পার্টি অফ ইন্ডিয়া গঠনের সময় ২০১১ সালে এর সঙ্গে যুক্ত নয়—এমন একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার এক নেতা। এছাড়াও, ২০২৩ সালে সংগঠনটির সঙ্গে আরএসএস আলোচনায় বসেছিল বলে প্রকাশিত খবরে তিনি ইঙ্গিত দেন।জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, সিপি আই (এম)-এর নেতা মোহাম্মদ ইউসুফ তারিগামীকে হারানোর জন্য বিজেপি ও জামায়াত-ই-ইসলামী গোপনভাবে সমন্বয় করেছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত তারিগামীই জয়ী হন
বিজয়ন বলেন, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের অনেক সমর্থক ইউডিএফ-এর এই দ্বিমুখী রাজনৈতিক আচরণ—জামায়াত ও বিজেপি উভয়কেই সন্তুষ্ট করার প্রচেষ্টা—নিয়ে হতাশ। তার ভাষায়, “তারা রাজ্যের শান্তি ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে বিপদের মুখে ফেলছে।”
জামায়াত ও হিন্দুত্ববাদী শাক্তি একই পাখির পালক: কেরালার মুখ্যমন্ত্রী
