জ্বালানি খরচ কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে দেশটির সব সরকারি মন্ত্রণালয়, সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (WFH) বা ঘরে বসে কাজ করার নতুন নীতিমালা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম জানান, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর চাপ বেড়েছে, তাই বিকল্প ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এই নীতিমালার বিস্তারিত নির্দেশনা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। কোন কোন খাতে কীভাবে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ কার্যকর হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেট্রোনাস সংস্থা ইতোমধ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো নাগরিকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখা, একই সঙ্গে ব্যয় কমিয়ে আনা।
বর্তমানে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মালয়েশিয়া সরকার প্রতি মাসে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ভর্তুকি দিচ্ছে। এই বিশাল ভর্তুকির চাপ কমানো এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যেই সরকার এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি সাশ্রয়েই সাহায্য করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে সরকারি কাজের ধরণেও পরিবর্তন আনতে পারে। ডিজিটাল ও রিমোট ওয়ার্কিং ব্যবস্থার বিস্তার ভবিষ্যতে আরও আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।