গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি কাঠামো গঠনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ উদ্যোগের আওতায় ‘আন্তর্জাতিক বোর্ড অব পিস’ নামে একটি তদারকি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যার সদস্যদের তালিকা ইতোমধ্যে হোয়াইট
হাউস প্রকাশ করেছে।স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউস জানায়, গাজায় প্রস্তাবিত টেকনোক্র্যাট প্রশাসনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারকির দায়িত্বে থাকবে এই বোর্ড। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, বোর্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এই আন্তর্জাতিক বোর্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন
করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেই।এর
আগে প্রকাশিত ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, গাজায় দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট
সরকার গঠন করা হবে, যা এইআন্তর্জাতিক বোর্ডের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। মার্কিন সমর্থিত এই প্রস্তাবে
গত অক্টোবরে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস সম্মতি জানিয়েছে বলে জানা যায়।হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বোর্ডের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রাইভেট ইক্যুইটি খাতের নির্বাহী ও ধনকুবের মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা
এবং ট্রাম্পের উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।এছাড়া জাতি-
সংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক বিশেষ দূত নিকোলে ম্লাদেনভ-কে গাজার ‘হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বোর্ডের প্রতিটি সদস্যের নির্দিষ্ট দায়িত্ব কী হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।এরই মধ্যে গাজার প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনার জন্য ১৫সদস্যের একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন করা হয়েছে। এ সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পশ্চিম তীরের বাসিন্দা ও প্রকৌশলী আলী আবদেল হামিদ শাথ। তবে সরকারে অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য সদস্যদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।এই বোর্ড গঠন নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন
গুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, কোনো বিদেশি শক্তির নেতৃত্বে অন্য একটি ভূখণ্ডের শাসনব্যবস্থা তদারকির উদ্যোগ উপনিবেশিক মানসিকতার প্রতিফলন হতে পারে। একই সঙ্গে, ইরাক যুদ্ধের সময় টনি ব্লেয়ারের ভূমিকার কারণে তাকেও বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে সমালোচনা উঠেছে।এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইসরাইল ও হামাস একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। চলমান পরিস্থিতিতে অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় চার শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে।একই সময়ে তিনজন ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।