ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে চরম অবনতির পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে দূরত্ব বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণারপর
পরিস্থিতি আরও দ্রুত খারাপের দিকে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে আততায়ীর গুলিতে নিহত শহিদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় লাখো মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়—‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’—যা দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আলোচনায় আসে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা তুলে ধরে একটি সম্পাদকীয় কার্টুন প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন। কার্টুনে দেখা যায়, ‘বাংলাদেশ’ লেখা গায়ে একটি হুঙ্কাররত বাঘ দাঁড়িয়ে আছে, যার সামনে অপেক্ষাকৃত ছোট অবয়বে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেখানো হয়েছে। কার্টুনটি এঁকেছেন শিল্পী রোহিত ভগবন্ত। এদিকে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন, আগরতলা ও গুয়াহাটি মিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে থাকা বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারে সাময়িকভাবে ভিসা সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। গত কয়েকদিন ধরে এসব মিশনের সামনে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ চলছিল। সোমবার
শিলিগুড়ির বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারের সামনে লাল-সবুজ পতাকা সংবলিত সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে তাতে আগুন দেয় কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। এর আগে শনিবার রাতে ভারতের একটি চরমপন্থি সংগঠনের ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দেয় এবং হাইকমিশনারকে হত্যার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীরা হাইকমিশনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করেনি এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার এসব সহিংস ও উসকানিমূলক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, দিল্লিতে বাংলাদেশ মিশন কূটনৈতিক এলাকার ভেতরে অবস্থিত এবং সেখানে এমন ঘটনার সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অনভিপ্রেত।
ডনের কার্টুনে বাঘরূপী বাংলাদেশ, সামনে মোদি
