রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টাঙানো একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ব্যানারটি অপসারণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। ব্যানারটি টাঙিয়েছিলেন বিশ্ব
বিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদার, যিনি রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।রোববার দুপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক এলাকার সামনে প্যারিস রোডে ঝুলিয়ে রাখা ব্যানারটি নিজ হাতে ছিঁড়ে ফেলেন সালাহউদ্দিন আম্মার। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অধ্যাপক নেছার উদ্দিনকে দুপুর ২টার মধ্যে ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যানার অপসারণ না করায় তিনি নিজেই তা ছিঁড়ে ফেলেন বলে জানান।ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে সালাহউদ্দিন আম্মার লেখেন, তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে আগেই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন এবং সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যানার না সরানোয় একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি নিজে পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ক্যাম্পাসে দলীয় ব্যানার বা রাজনৈতিক প্রচারের যে কোনো চর্চার বিরো
ধিতা তিনি করবেন এবং শিক্ষকদের রাজনৈতিক ভূমিকা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করছে বলেও উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, একই ধরনের বার্তা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, তবে এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামি ক্যাম্পাসে কোনো ব্যানার, মিছিল বা প্রকাশ্য দলীয় তৎপরতা চালায়নি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসের বাইরে হওয়াই উচিত।এর আগে দেওয়া আরেক পোস্টে সালাহউদ্দিন ব্যানার অপসারণের আইনি ভিত্তি তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের ধারা ৫৫(২) অনুযায়ী বিশ্ব
বিদ্যালয় চত্বরে দলীয় রাজনীতি বা প্রচার নিষিদ্ধ এবং শিক্ষক সমিতিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাও আইনবিরোধী।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাকসুর সাবেক এজিএস প্রার্থী মো. সজিবুর রহমান মন্তব্য করেন, শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি নিয়ে যারা এখন কথা বলছেন, তারা নিজেরাই দ্বিচারিতার পরিচয়দিচ্ছেন। তিনি রাকসু প্রতিনিধিদের রাজনৈতিক এজেন্ডারবদলেক্যাম্পাসের বাস্তব সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বানজানান।অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউ-নিয়নের একাংশের কোষাধ্যক্ষ কায়ছার আহমেদ বলেন, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গোপনে রাজনীতি করতে চাইলে ব্যানার-পোস্টারের প্রয়োজন নেই। এতে অর্থও সাশ্রয় হবে এবং কেউ ছিঁড়েও ফেলতে পারবে না—এমন ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি।এ বিষয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সংবিধান অনুযায়ী জিয়া পরিষদ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। তাঁর মতে, ঘোষণা দিয়ে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা অজ্ঞতা ও ধৃষ্টতার পরিচয়। তিনি এ ঘটনাকে নোংরামি আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সালাহউদ্দিন আম্মারের আচরণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন।