থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে সংঘাত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে শনিবার ভোরে আবারও দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, যুদ্ধবিরতি কেবল তখনই সম্ভব যখন কম্বোডিয়া তাদের সমস্ত বাহিনী প্রত্যাহার করবে এবং সীমান্ত এলাকা থেকে স্থলমাইন সরাবে। তিনি বলেছেন, “যতক্ষণ না আমাদের ভূখণ্ড ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, ততক্ষণ থাইল্যান্ডের সামরিক অভিযান চলবে। আজ সকালে নেওয়া পদক্ষেপই তার প্রমাণ।” বিবিসি জানিয়েছে, সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখলের চেষ্টা হিসেবে থাইল্যান্ডের সেনারা রাতভর গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। নতুন সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুই দেশের প্রায় সাত লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রাতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের পর সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “উভয় দেশই শান্তির জন্য প্রস্তুত। আজ সন্ধ্যা থেকে গোলাগুলি বন্ধ হবে এবং অক্টোবরের চুক্তি অনুযায়ী কাজ করা হবে।” তবে অনুতিন উল্লেখ করেছেন, থাইল্যান্ড আগ্রাসী নয়; যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হলে প্রথমে কম্বোডিয়াকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার এবং সীমান্ত থেকে স্থলমাইন সরাতে হবে। এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবারও থাইল্যান্ড সাতটি বোমা হামলা চালিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এই সীমান্ত সংঘাত গত ২৪ জুলাই থেকে তীব্র হয়ে ওঠে। কম্বোডিয়ার রকেট হামলার জবাবে থাইল্যান্ড বিমান হামলা চালায়। উভয় দেশ একে অপরকে সংঘাতের জন্য দায়ী করছে। অক্টোবরে ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্থতায় ‘তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে শতাধিক বছর ধরে বিরোধ বিদ্যমান।
