অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম সম্প্রতি এক টেলিভিশন আলোচনায় বলেন, শেখ হাসিনা তার বাবাকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছিলেন যে, মানুষের ক্ষোভ সরাসরি তার বাবার ওপর গিয়ে পড়েছিল। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িটি অনেকের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত হলেও, এটি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি প্রশ্ন তুলেন— কেবল প্যারেড করা কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করার প্রমাণ? জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা— এগুলো কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীত? তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছর বিচার বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে ছিল, আর বর্তমান সরকার সেটিকে স্বাধীন করার উদ্যোগ নিয়েছে। শফিকুল আলম আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যে দেশ চেয়েছিলেন— তা ছিল বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত এবং গর্বের সঙ্গে নাগরিকত্ব ধারণ করার মতো একটি বাংলাদেশ। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে মুক্তিযুদ্ধকে বারবার একটি নির্দিষ্ট পরিবারের ব্যক্তিগত ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখানো হয়েছে। স্কুল-কলেজ, ব্রিজসহ বিভিন্ন স্থাপনার বিপুল সংখ্যক নামকরণ সেই পরিবারের নামে হওয়াকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, সেই সময়ে যেন দেশের মানুষকে একটি রাজত্বের প্রজা হিসেবেই থাকতে হয়েছিল। তখন মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা কোথায় ছিল— সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন।
