আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআন কারীমে সফল মানুষ ও ব্যর্থ মানুষের কথা বিশদভাবে আলোচনা করেছেন। এক প্রকার মানুষ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা কামিয়াব ও সফল। আরেক প্রকার মানুষ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা না-কাম ও ব্যর্থ। কে সফল আর কে ব্যর্থ—আল্লাহ তাআলা সূরা শামসে এ বিষয়টি খুব পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
قَدۡ اَفۡلَحَ مَنۡ زَکّٰىہَا، وَقَدۡ خَابَ مَنۡ دَسّٰىہَا
অবশ্যই সে সফল হয়েছে, যে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে, আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তা বিনষ্ট করেছে। – সূরা শামস (৯১) : ৯-১০
অতএব, সফল তারা, যারা নফসকে পাক-সাফ করেছে, আর ব্যর্থ তারা, যারা গুনাহ ও নাফরমানী করে নফসকে বরবাদ করেছে।
আল্লাহর কসমের রহস্য //// কথাটি আল্লাহ তাআলা জোর দিয়ে বলেছেন। কথাটির প্রতি জোর ও গুরুত্ব প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর আগে অনেক বিষয়ের কসম নিয়েছেন। যেমন ইরশাদ হয়েছে:
وَالشَّمۡسِ وَضُحٰہَا، وَالۡقَمَرِ اِذَا تَلٰىہَا، وَالنَّہَارِ اِذَا جَلّٰىہَا، وَالَّیۡل اِذَا یَغۡشٰىہَا، وَالسَّمَآءِ وَمَا بَنٰہَا، وَالۡاَرۡضِ وَمَا طَحٰہَا، وَنَفۡسٍ وَّمَا سَوّٰىہَا، فَاَلۡہَمَہَا فُجُوْرَہَا وَتَقۡوٰہَا
এখানে আল্লাহ তাআলা শুধু নিজের নামে নয়, অনেক মাখলুকের নামেও কসম করেছেন। মোট এগারোটি বিষয়ের কসম দিয়ে তিনি বলেন, নফসকে যারা পরিশুদ্ধ করতে পেরেছে, তারা সফল; যারা পারেনি, তারা ব্যর্থ।
আল্লাহ তাআলার কসম খাওয়ার উদ্দেশ্য—বান্দার হৃদয়ে কথাটি দৃঢ়ভাবে বসানো। এগারোটি কসম হলো:
1.সূর্যের কসম 2.সূর্যের আলোর কসম 3.চাঁদের কসম 4.দিনের কসম 5.রাতের কসম 6 আসমানের কসম 7.আসমান যিনি বানিয়েছেন তাঁর কসম8.জমিনের কসম 9.জমিন যিনি বিস্তৃত করেছেন তাঁর কসম 10.নফসের কসম 11.নফসকে যিনি পরিপাটি করেছেন তাঁর কসম। এক কথায়, আল্লাহ বলেন:
قَدۡ اَفۡلَحَ مَنۡ زَکّٰىہَا، وَقَدۡ خَابَ مَنۡ دَسّٰىہَا
অর্থাৎ, কামিয়াব সে ব্যক্তি, যে নফসকে পরিশুদ্ধ করেছে, আর ব্যর্থ সে ব্যক্তি, যে গুনাহে নফসকে বরবাদ করেছে। ভালো কাজ ও মন্দ কাজ চেনার উপায় শেখ সা‘দী (রাহ.) বলেছেন: مکن نفس اماره را پیروی
অর্থাৎ, নফসে আম্মারার পায়রবী করো না।
যে কাজটি নফস প্ররোচিত করে, সেটাই মন্দ কাজ। সেই কাজটি এড়িয়ে চলাই নফসের ইসলাহ বা আত্মশুদ্ধি। এটাই সফলকাম হওয়ার মূল চাবিকাঠি।
নফসের তিন স্তর নফসের তিনটি স্তর রয়েছে:
1.নফসে আম্মারাহ – মন্দ কাজে উদ্বুদ্ধকারী নফস
2.নফসে লাউওয়ামাহ – মন্দ কাজের জন্য তিরস্কারকারী নফস 3.নফসে মুতমাইন্নাহ – নেক কাজে প্রশান্তি অর্জনকারী নফস নবী প্রেরণের উদ্দেশ্য: নফসের ইসলাহ আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে নবী পাঠিয়েছেন, যার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নফসের ইসলাহ। আখেরী নবী দয়াল নবীজি রাসূলে (ﷺ)সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
لَقَدۡ مَنَّ اللّٰہُ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اِذۡ بَعَثَ فِیۡہِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡ اَنۡفُسِہِمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ وَیُزَکِّیۡہِمۡ وَیُعَلِّمُہُمُ الۡکِتٰبَ وَالۡحِکۡمَۃَ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চারটি কাজ:
1.তিলাওয়াতুল কুরআন – উম্মতকে কুরআন পড়ে শুনানো 2.তাযকিয়া – অন্তরকে পাক-সাফ করা, নফসের রোগ নিরাময় 3.কিতাব শিক্ষা – কিতাব শিক্ষা দেওয়া 4.হেকমত শিক্ষা – বাস্তব জীবনের সাথে মিল রেখে প্রজ্ঞা শিক্ষা ইসলাহের ধাপ: তাখলিয়া ও তাহলিয়া নফসের ইসলাহে দুটি ধাপ রয়েছে: 1.তাখলিয়া – অন্তরের রোগগুলো বের করা:লোভ, দীর্ঘ আশা, রাগ, মিথ্যা, গীবত, কৃপণতা, হিংসা, রিয়া, অহংকার, কীনা। 2. তাহলিয়া – উত্তম গুণাবলি দিয়ে অন্তরকে সুসজ্জিত করা: ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা, অল্পেতুষ্টি, দ্বীনী ইলম, বিশ্বাস, নিজেকে আল্লাহর ন্যস্ত করা, আল্লাহর ওপর ভরসা, আল্লাহর ফয়সালায় রাজি থাকা, পূর্ণ আনুগত্য। এই অর্জন ও বর্জনই নফসের ইসলাহ এবং তাযকিয়া।
قَدۡ اَفۡلَحَ مَنۡ زَکّٰىہَا، وَقَدۡ خَابَ مَنۡ دَسّٰىہَا – সূরা শামস (৯১) : ৯-১০ সফল হয় যে ব্যক্তি নফসকে পরিশুদ্ধ করে, আর ব্যর্থ হয় যে ব্যক্তি তা নষ্ট করে।
চলমান..
“নফস ও আত্নাশুদ্বি:আল্লাহর নূরেই সফলতার পথ”
