একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এমন একটিবাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য—যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশু সবাই ঘর থেকে বের হয়ে নিশ্চিন্তে ফিরে আসতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নানা ধর্ম, নানা জনগোষ্ঠী ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের দেশ। পাহাড়-সমতল, মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান—সবাইকে নিয়েই এই দেশ, আর সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশ গড়তে হবে। তার মতে, এখন সময় এসেছে বিভাজন নয়, ঐক্যের মাধ্যমে জাতি গঠনের। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি পূর্বাচলের গণসংবর্ধনার মঞ্চে উপস্থিত হন। বেলা ৩টা ৫৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন। মঞ্চে তাকে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বক্তব্যের শুরুতে তিনি দেশবাসীকে ‘প্রিয় বাংলাদেশ’ বলে সম্বোধন করেন এবং সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতেই তিনি আবার মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছেন।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন জাতিঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালেও দেশের সর্বস্তরের মানুষ এক হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে। এখন মানুষ কথা বলার অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়।
সাম্প্রতিক সময়ের শহীদদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে একটি প্রত্যাশিত, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার মূল দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের হাতেই থাকবে। দেশ গঠনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের বিখ্যাত উক্তি ‘I have a dream’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তার ‘I have a plan’। তবে এই পরিকল্পনা
বাস্তবায়নের জন্য দেশের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক কাঠামো ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশ গড়ার অঙ্গীকার জানিয়ে তিনি একাধিকবার বলেন, তারা দেশের শান্তি চান।
এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ নেমে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ঢাকায় আসার আগে বিমানটি সিলেটে যাত্রাবিরতি করে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান। বিমানবন্দর থেকে তিনি জুলাএক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট সড়ক) হয়ে গণসংবর্ধনাস্থলে যান। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। পরে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–কে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতাল–এ যাওয়ার কথা জানান। এরপর গুলশান-২–এর বাসভবনে যাওয়ার সূচি রয়েছে। তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীরউপস্থিতি দেখা যায়। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা পূর্বাচলে জড়ো হন। পুরো এলাকা ব্যানার-ফেস্টুন ও স্লোগানে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।
নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই: তারেক রহমান
