১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ গেজেট জারি করা হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সেই প্রজ্ঞাপনে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব হস্তান্তরের দিন থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য ‘ভেরি ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন’ (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এই প্রজ্ঞাপনটি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের তৎকালীন সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্নার স্বাক্ষরে জারি হয়। বর্তমানে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন এবং গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গেজেট অনুযায়ী, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১–এর ধারা ২(ক) এর আওতায় তাকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। উক্ত ধারায় বলা হয়েছে, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান ছাড়াও সরকার চাইলে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। আইন অনুযায়ী, কোনো বিদায়ী রাষ্ট্রীয় পদধারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএসএফ নিরাপত্তা পান না—তাদের এ ধরনের মর্যাদা আলাদাভাবে ঘোষণা করতে হয়।
এই ঘোষণার ফলে ড. ইউনূস এক বছরের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর পূর্ণ নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। ‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিধিমালা, ২০২৫’ অনুসারে, একজন ভিভিআইপি হিসেবে তিনি তার বাসভবন ও অফিসে বিশেষ নিরাপত্তা পাবেন। তার উপস্থিতিতে আয়োজিত যেকোনো অনুষ্ঠান নিরাপত্তা তল্লাশির আওতায় থাকবে।
দেশের ভেতরে কিংবা বিদেশ সফরের সময় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এছাড়া, তার সংস্পর্শে আসা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরিচয় ও পটভূমি যাচাই করা হবে। বাসভবন, অফিস কিংবা অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ ও প্রস্থান করা ব্যক্তি, যানবাহন ও সামগ্রী কঠোর নিরাপত্তা তদারকির আওতায় থাকবে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই গেজেটটি জনসমক্ষে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়নি এবং বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেসের অনলাইন আর্কাইভেও তা প্রকাশিত হয়নি বলে জানা গেছে।
ড. ইউনূস প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ৮ আগস্ট তাকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়।