বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম না হলে জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমানে রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জামায়াত কখনোই জনগণের ম্যান্ডেট পায়নি এবং ভবিষ্যতেও পাওয়ার সুযোগ নেই। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জামায়াতকে কেউ কেউ রাজনৈতিকভাবে সামনে আনার চেষ্টা করলেও, নির্বাচনে অনিয়ম ছাড়া তাদের ক্ষমতায় পৌঁছানো সম্ভব নয়। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সেই সম্ভাবনা একেবারেই নেই। হর্ষবর্ধন শ্রিংলা আরও বলেন, জামায়াত অতীতেও কখনো‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ারইলেকশন’-এ জয়লাভ করতে পারেনি। ইতিহাস বলছে, দলটি সাধারণত পাঁচ থেকে সাত শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। অর্থাৎ তাদের জনভিত্তি খুবই সীমিত। এর আগে বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনিবলেন,ভারতের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে যে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় ভারত, যেখানে সব রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন পরিবেশ দৃশ্যমান নয়। আদৌ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না,সেটিও অনিশ্চিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান শ্রিংলা।বাংলাদেশের ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর অনেক বন্ধু তৈরি হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানতে পেরেছেন, অনেকেই মনে করছেন—এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য ভুল হতে পারে।তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা স্থায়ী সরকারও নয়। অথচ এই সরকারই দেশের খেলাধুলার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। এ বিষয়টি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
