পশ্চিমা গোয়েন্দা নজরদারি ফাঁকি দিয়ে উত্তর কোরিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক ‘হোয়াসং-১৮’ (Hwasong-18) আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) ইরানের হাতে পৌঁছেছে—এমন এক চাঞ্চল্যকর দাবি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে; প্রচারিত তথ্যে বলা হচ্ছে, গত প্রায় ১৪ মাস ধরে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে তেহরান ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা চলেছে এবং ধাপে ধাপে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইরানে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে পশ্চিমা নজরদারি এড়াতে বিকল্প গোপন রুট ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এই দাবিগুলোর পক্ষে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য বা সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি এবং বিষয়টি যাচাইযোগ্য প্রমাণের অভাবে অনুমান হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে; কিছু বিশ্লেষকের মতে, যদি এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বাস্তবেই ইরানের কাছে থাকে, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, কারণ সলিড-ফুয়েল প্রযুক্তির কারণে এসব মিসাইল দ্রুত প্রস্তুত ও উৎক্ষেপণযোগ্য, ফলে আগাম হামলার ঝুঁকি কমে এবং দ্রুত পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা তৈরি হয়, পাশাপাশি মোবাইল লঞ্চার ব্যবহারের ফলে এগুলো সহজে স্থানান্তর ও গোপন রাখা সম্ভব, যা প্রতিপক্ষের জন্য শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে; আরও বলা হচ্ছে, উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থার কারণে জিপিএস জ্যামিংয়ের প্রভাব কম হতে পারে এবং উচ্চগতির কারণে প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এগুলো প্রতিহত করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যদিও এসব সক্ষমতার বিস্তারিত তথ্য সীমিত এবং প্রকাশ্যে নিশ্চিত নয়; এ ধরনের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হতে পারে, তবে পুরো বিষয়টি এখনো অসমর্থিত তথ্য, বিশ্লেষণ এবং অনলাইন সূত্রের ওপর ভিত্তি করে আলোচনায় রয়েছে, তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নির্ভরযোগ্য ও যাচাইকৃত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা জরুরি।