পেঁয়াজ ও আলুর পর এবার কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মসুর ডাল ও ছোলার বাজারেও। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই দুই ডালজাতীয় পণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে ডিম ও সবজির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন না আসায় আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি দেখা যাচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, আসন্ন রমজান মাসে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হলে সরকারের বাজার তদারকি আরও জোরদার করা জরুরি। ব্যবসায়ীদের মতে, সরবরাহ বাড়ার কারণেই কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। এই ধারা বজায় থাকলে সামনে হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও কম থাকবে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী ও আগারগাঁও এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি করা মোটা দানার মসুর ডাল বর্তমানে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এই ডালের দাম ছিল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। একই সময়ে ছোলার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এখন প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়, যেখানে সপ্তাহ দুয়েক আগে দাম ছিল প্রায় ১১০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, গত পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে ডাল ও ছোলার বাজারে দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলে রমজানের আগ মুহূর্তেও দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম থাকবে বলে তারা মনে করছেন। আলুর বাজারে তুলনা
মূলকভাবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে। নতুন আলুর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি আলু এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়, যেখানে গত সপ্তাহে দাম ছিল প্রায় ৩০ টাকা। নতুন আলু সহজলভ্য হওয়ায় পুরোনো আলুর চাহিদা কমেছে, ফলে পুরোনো আলুর দামও নেমে এসেছে ১৫ থেকে ১৮ টাকায়।শীতকালীন সবজির সরবরাহও আগের চেয়ে বেড়েছে। এর প্রভাবে কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। খুচরা বাজারে এখন অনেক সবজি ৫০ টাকার কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। শিমের কেজি মানভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। বেগুনের দাম ১০ টাকা কমে এখন ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। মাঝারি আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে আগের সপ্তাহে দাম ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া কাঁচামরিচের দামও কমে এসেছে—এখন প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকা পেঁয়াজের বাজারও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে। বড় আকারের ভারতীয় পেঁয়াজ এখন প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়। আর দেশি পুরোনো পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। ডিম ও মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। ফার্মের বাদামি ডিম প্রতি ডজন ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, আর সাদা ডিম ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজি ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। আগারগাঁও কাঁচাবাজারে নতুন আলু কিনতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, বর্তমানে বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও রমজানের আগে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি থাকলে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রাখা সম্ভব হবে।
পোঁয়াজ আলুর পর কমতির দিকে মসুর ডাল ও ছোলা
