আমরা ছিলাম পথহারা, দিশেহারা। হেদায়াত ও সফলতার পথ অজানা। অতপর আল্লাহ তাআলা আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরণ করলেন। তিনি সত্য-মিথ্যা চিনিয়ে দিয়েছেন, নাজাতের পথ দেখিয়েছেন এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পদ্ধতি শিখিয়েছেন। পবিত্র কুরআন এ অনুগ্রহকে এভাবে বর্ণনা করে:“আল্লাহ মুমিনদের প্রতি বড় অনুগ্রহ করেছেন; তিনি তাদেরই নিজেদের মধ্য থেকে তাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করেছেন। যিনি তাদের সামনে আয়াত তিলাওয়াত করেন, পরিশুদ্ধ করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা পূর্বে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে ছিল।”— সূরা আলে ইমরান (৩:১৬৪) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছেন জগৎবাসীর জন্য রহমত হয়ে:আমি তোমাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবে পাঠিয়েছি।” — সূরা আম্বিয়া (২১:১০৭)ইমাম ত্ববারী রাহ. বলেন, নবীজী মুমিনদের হিদায়াত করেছেন আর কافিরদেরও বিপদের থেকে রক্ষা করেছেন। মাওলানা শাব্বীর আহমদ উসমানী রাহ. বলেন, রাসূলের জিহাদও রহমতের অংশ। নবীজীর উম্মতের প্রতি দরদ অসীম। কুরআন ও হাদিসে তার উদাহরণ আছে: তিনি বলেছিলেন: “হে আল্লাহ, আমার উম্মত! আমার উম্মত!!” — সহীহ মুসলিম (২০২) তিনি নিজেকে আগুন থেকে রক্ষা করা ব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, আর আমরা তার হাত থেকে ছুটে যাই — সহীহ মুসলিম (২২৮৫) উম্মতের জন্য দুআ এবং শাফাআত সংরক্ষণ করেছেন — সহীহ মুসলিম (১৯৯) সাহাবীরা জানতেন, তিনি মুমিনদের দুনিয়া ও আখিরাতে অভিভাবক — সহীহ বুখারী (৪৭৮১) মুমিনের জন্য নবীজীর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের মূল ভিত্তি। হাদিসে উল্লেখ আছে:তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতামাতা, সন্তান ও সকল মানুষ থেকে প্রিয় হই।” — সহীহ বুখারী (১৫) সাহাবীদের উদাহরণ: হযরত ওমর রা. বলেছেন, “এখন থেকে আপনি আমার কাছে আমার জানের চেয়েও প্রিয়।” — সহীহ বুখারী (৬৬৩২) হযরত আনাস রা. বলেন, নবীজীর প্রতি ভালোবাসার জন্যই ঈমানের স্বাদ আস্বাদিত হয় — সহীহ মুসলিম (২৬৩৯) নবীজীর প্রতি ভালোবাসা শুধুমাত্র আবেগ নয়, বরং আনুগত্য ও ইবাদতের মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া উচিত।যে যাকে ভালোবাসে, সে তার কথা বেশি স্মরণ করে। দরূদ পাঠও সেই ভালোবাসার প্রকাশ।” — ইবনুল কায়্যিম নবীজীর প্রতি ভালোবাসা মুমিনের ঈমানকে পূর্ণতা দেয়, জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এটি কেবল দুনিয়াতে নয়, আখিরাতেও সর্বোচ্চ সাফল্যের চাবিকাঠি।
