পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মৃত’ বলে যে গুজব ছড়াচ্ছে, তা পাকিস্তান সরকার সরাসরি অস্বীকার করেছে। সরকারি পক্ষ জানিয়েছে—ইমরান খান এখনো আদিয়ালা কারাগারেই আছেন এবং তিনি জীবিত ও সুস্থ। তবে দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবারের সদস্যদের দেখা করার অনুমতি না দেওয়ায় এই গুজব আরও ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের দাবি—জেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার জীবিত থাকার প্রমাণ চাওয়ার পরও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্রিটিশ এক গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইমরান খানের ছেলে কাসিম খান ‘এক্স’-এ পোস্ট করে জানান, তার বাবাকে কয়েক সপ্তাহ ধরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে। পরিবার বা আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসা ইমরান খান ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন। পিটিআইয়ের দাবি—এই সব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পোস্টে কাসিম আরও লিখেছেন, তার বাবা ৮৪৫ দিন ধরে কারাগারে আটক, এবং গত ছয় সপ্তাহ ধরে একা একটি ডেথ সেলে রাখা হয়েছে। আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তাদের বোনদের সঙ্গেও দেখা করতে দিচ্ছে না প্রশাসন। ফোনকল, সাক্ষাৎ—কিছুই নেই। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের কঠোর পরিবেশ কোনো নিরাপত্তা প্রটোকলের অংশ নয়; বরং ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা গোপন করার চেষ্টা। কাসিম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিদেশি সরকারগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন—পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিশ্চিত করা, অমানবিক বিচ্ছিন্নতা বন্ধ করা এবং রাজনৈতিক কারণে বন্দি পিটিআই নেতাকে মুক্তি দেওয়া এখন জরুরি।
ইমরান খানের বোন আলিমা খানমও জানান, গত কয়েক মাস ধরে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে পরিবারকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও দেখা করার অনুমতি মেলে না। আরেক বোন নুরীন নিয়াজি জানান, টানা চার সপ্তাহ ধরে তাদের কোনো সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন—পরিবারের কাছে ইমরান খানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। পিটিআই নেতা জুলফি বুখারি বলেন, তারাও ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব বিশ্বাস করেন না; তবে একজন জনপ্রিয় নেতাকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন করে রাখায় জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ঠেকাতেই তাকে এমনভাবে বন্দি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে—ইমরান খান কারাগারেই আছেন এবং তার স্বাস্থ্য ভালো। তার স্থানান্তর বা স্বাস্থ্যহানি নিয়ে ছড়ানো তথ্য পুরোপুরি ভিত্তিহীন। তারা জানান, চিকিৎসা, খাদ্য, ব্যায়ামসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় সেবাই তাকে দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহও বলেছেন—ইমরান খান সুস্থ আছেন, তার নিয়মিত চিকিৎসা হয় এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।