যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে বের হয়ে গেছে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে শুরু হওয়া প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং পররাষ্ট্র দপ্তর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি)জানি-
য়েছে যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।এইচএইচএসের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে যে ডব্লিউএইচও তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং সংস্থাটি সংস্কার ও জবাবদিহিতার মান পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় সংস্থার ভূমিকা-
কে নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র সমালোচনার মুখে। কর্মকর্তার অভি-
যোগ, সংস্থা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থাহিসেবেকোভিড-
১৯কে ঘোষণা করতে দেরি করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন স্বার্থের বিরোধিতা করেছে।ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চীনসহ অন্যান্য দেশের তুলনায় ডব্লিউএইচওতে
সর্বাধিক অনুদান প্রদান করেছে। তবে ইতিহাসে কখনো কোনো মার্কিন নাগরিককে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ করা হয়নি।নিয়ম অনুযায়ী, ডব্লিউএইচও ছাড়ার জন্য এক বছর আগে সংস্থাকে জানাতে হয়। তাই, গত বছর নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিক-ভাবে সংস্থাকে এ বিষয়ে অবহিত করেছিল।ডব্লিউএইচওর
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ১৩৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান এখনো বকেয়া রয়েছে। তবে এইচএইচএসের কর্মকর্তার মতে, সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থ পরিশোধে আইনগতভাবে বাধ্য নয়।হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ডব্লিউএইচওর বাইরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এইচএইচএসের এক কর্মকর্তা বলেন, ৬৩টি দেশে দুই হাজারের বেশি মার্কিন কর্মী কাজ করছেন এবং শতাধিক দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। রোগ পর্যবেক্ষণ, রোগনির্ণয় এবং প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।ডব্লিউএইচওর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের বিষয়টি সংস্থার নির্বাহী বোর্ডের ফেব্রুয়ারি বৈঠকে আলোচনা হবে এবং পরিচালনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।