ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেছেন, এই সংঘাতে ইসলামাবাদ ভারতের বর্তমান সরকারকে এমন এক কঠোর জবাব দিয়েছে, যা তারা দীর্ঘদিন মনে রাখবে। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল ভারতের জন্য একটি ভুলে না যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতা।বুধবার খাইবার পখতুনখোয়ার হারিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর ল্যাপটপ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘মার্কা-এ-হক’ বা সত্যের লড়াইয়ে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী জাতির দোয়া ও দৃঢ় সমর্থনের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করেছে। তিনি দাবি করেন, দিল্লি থেকে মুম্বাই—ভারতের শাসকগোষ্ঠী এই পরাজয়ের স্মৃতি সহজে ভুলতে পারবে না। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়। পাকিস্তানের বক্তব্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর এলাকায় পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই ভারত পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালায়। অন্যদিকে নয়াদিল্লি দাবি করে, পেহেলগাম এলাকায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতরা পাকিস্তানি নাগরিক। তবে ইসলামাবাদ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্তের প্রস্তাব দেয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, প্রায় ৮৭ ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘাতে তারা ভারতের তিনটি রাফালসহ মোট ছয়টি যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের এই সংঘাত শেষ হয় ১০ মে, যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে। এদিনের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ খাইবার পখতুনখোয়া প্রদেশের জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ সাহসী, দৃঢ়চেতা এবং দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তাঁদের ত্যাগের কারণেই দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়াতে ল্যাপটপ স্কিমের আওতা খাইবার পখতুনখোয়া জুড়ে আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
ভারতকে এমন শিক্ষা দিয়েছি যা কোনোদিন ভুলবে না : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
