বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের ক্রেতাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত কয়লা উৎপাদন-
কারী প্রতিষ্ঠান কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড (সিআইএল)। এখন থেকে এই তিন দেশের ক্রেতারা সরাসরিঅনলাইনের মাধ্যমে কোল ইন্ডিয়ার কয়লা নিলামে অংশ নিতেপারবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগী ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করতে হবে না।ভারতীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার তথ্যানুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে কোল ইন্ডিয়া তাদের উদ্বৃত্ত কয়লার আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছুটা ভাটা পড়েছে। গত এক বছরে ১২ মাসের মধ্যে সাত মাসেই এই উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোল ইন্ডিয়ার কয়লা সরবরাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
এই প্রেক্ষাপটে গত ডিসেম্বরেভারতসরকারবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উদ্বৃত্ত কয়লা বিদেশে রপ্তানির অনুমতি দেয়। এর আগে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের ক্রেতারা মূলত ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে কয়লা সংগ্রহ করতেন। নতুন নিয়মে সরাসরি নিলামে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় এই নির্ভরতা অনেকটাই কমবে।কয়লা ব্যবসা সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এক বছরে ভারত থেকে প্রায় ১৫ লাখ টনের বেশি কয়লা রপ্তানি হয়েছে, যার বড় অংশ গেছে Bangladesh, Nepal ও Bhutan-এ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অভ্যন্তরে কয়লার চাহিদা কমে যাওয়ায় কোল ইন্ডিয়ার ই-নিলামেপ্রিমিয়ামও হ্রাস পেয়েছে। বিদেশি ক্রেতাদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি হলে কোম্পানির আয় বাড়তে পারে এবং বিক্রি কমে যাওয়ার ধারা পাল্টে যাওয়ারসম্ভাবনারয়েছেতবেবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই উদ্যোগ নতুন করে অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি নাও করতে পারে। বরং আগে যেসব দেশ মধ্যস্বত্ব-
ভোগীদের মাধ্যমে কয়লা কিনত, এখন সেই চাহিদাই সরাসরি নিলামের মাধ্যমে পূরণ হবে। এ ছাড়া পরিবহন ও বন্দর ব্যয়ের কারণে ভারতের কয়লার দাম অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি পড়ে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার অবকাঠামো উন্নত হওয়ায় তারা তুলনামূলক কম খরচে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে কয়লা সরবরাহ করতে পারছে—যা ভারতের জন্য একটি বড় প্রতিযোগিতামূলক চ্যালেঞ্জ।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরতা কমছে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের
