ইরান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তাদের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডারকে পুনরায় কৌশলগত অবস্থানে মোতায়েন করেছে বলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সূত্র, পশ্চিমা গোয়েন্দা বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষকদের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি উঠেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য যৌথ সামরিক পদক্ষেপ, পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে চাপ, এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন বৃদ্ধির পর তেহরান তাদের দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক সক্ষমতা সম্পন্ন অস্ত্রব্যবস্থা এবং আত্মঘাতী ড্রোন ইউনিটগুলোকে “তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলার প্রস্তুতি” অবস্থায় নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, দেশটির ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, মরুভূমিভিত্তিক মোবাইল লঞ্চার এবং পাহাড়ি টানেল নেটওয়ার্ককে পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলি সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালানো সম্ভব হয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমানে শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই; বরং “দ্রুত প্রতিশোধমূলক আঘাত” কৌশলকে সামনে রেখে তাদের সামরিক অবকাঠামো পুনর্বিন্যাস করছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের পশ্চিমাঞ্চল, পারস্য উপসাগরীয় উপকূল এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহন ইউনিটের অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি করেছে কিছু পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা। একই সঙ্গে শাহেদ সিরিজের ড্রোন, ফাত্তাহ ও খাইবার শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অঞ্চলজুড়ে এক নজিরবিহীন সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ এবং ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক আঘাত হানবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই সামরিক পুনর্বিন্যাস শুধু একটি প্রতীকী শক্তি প্রদর্শন নয়; বরং এটি এমন এক বার্তা, যেখানে তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাইছে যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের হামলা হলে জবাব হবে তাৎক্ষণিক, সমন্বিত এবং বহুমাত্রিক। এদিকে ওয়াশিংটন ও তেলআবিব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব দাবি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও একটি সম্ভাব্য বৃহৎ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সক্রিয় করল ইরান, বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
Oplus_131072
You Might Also Like
Sign Up For Daily Newsletter
Be keep up! Get the latest breaking news delivered straight to your inbox.
[mc4wp_form]
By signing up, you agree to our Terms of Use and acknowledge the data practices in our Privacy Policy. You may unsubscribe at any time.
Create an Amazing Newspaper
Discover thousands of options, easy to customize layouts, one-click to import demo and much more.
Learn More