মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে টানা বৃষ্টিপাত ও উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বর্ষণের প্রভাবে মারাত্মক বন্যা দেখা দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ১০,৪৬৯ জন বন্যাকবলিত বাসিন্দাকে বিভিন্ন অস্থায়ী ত্রাণকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। গতরাতে যাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৯,০০০—যা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। কেলান্তানে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি উত্তর-পূর্ব দিকের ভারি বর্ষণে কেলান্তানের তুমপাট, কোটা বারু, পাশোর পুতিহ এবং বাচোক জেলায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এই চার জেলাতেই ৮,২৪৮ জনের বেশি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। রাজ্যে বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩৩টি অস্থায়ী ত্রাণকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। পেরাকেও বন্যার প্রভাব বাড়ছে পেরাক রাজ্যের মানজুং, পেরাক তেঙ্গাহ, লারুত-মানতাং-সেলামা এবং বাতাং পদাং অঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ৯৪৬ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। নদীর পানি দ্রুত বেড়ে চলায় আরও এলাকায় বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে পরিস্থিতি কেদাহর কুলিম জেলায় ৩৪২ জন পেরলিসের পদাং বেসার ও কাংগার অঞ্চলে ৩১০ জন পেনাংয়ের সেবেরাং পেরাই অঞ্চল থেকে ২৪২ জন এই সব অঞ্চলের মানুষ বন্যার কারণে ঘরছাড়া হয়ে ত্রাণকেন্দ্রে অবস্থান করছেন। অন্য রাজ্যগুলোর অবস্থাও নাজুক তেরেঙ্গানুর বেসু এলাকায় ২৮২ জন সেলাংগরের সাবাক বেরনাম থেকে ৫৫ জন অনেক জায়গায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে এবং উদ্ধার দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। মালয়েশিয়ার আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, বর্ষণ আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দেশব্যাপী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ বিতরণে কাজ শুরু করেছে। বন্যার কারণে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং কিছু অঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিঘ্নিত হয়েছে।কৃষি জমি, হাঁস-মুরগি খামার এবং রাস্তাঘাটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
