মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ না নেন, তাহলে তেহরানের শাসক-
গোষ্ঠী আরও আত্মবিশ্বাসী ও প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে—এমন সতর্কতা দিয়েছেন সৌদি আরবের প্রতি-
রক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে তিনি এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। মার্কিন গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে তা তেহরান সরকারকে আরও সাহসী করে তুলবে। বৈঠক সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, একই সঙ্গে প্রিন্স খালিদ সতর্ক করে দেন যে, সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া ইরানে বোমা হামলা চালানো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, ইরান ইস্যুতে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিষ্কার কৌশল ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান বিষয়ে সৌদি আরবের বর্তমান অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা পরিবর্তিত। অতীতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের উত্তেজনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রশ্নে রিয়াদ তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্ক ছিল। একই দিনে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে; আবার হামলা না হলে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠার ঝুঁকিও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি মন্তব্য করেন, সৌদি কর্মকর্তারা বিষয়টির বাস্তবতা ভালোভাবেই বোঝেন। আরও জানা যায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি ইরানেরপ্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাপচারিতায় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। একই সঙ্গে সৌদি নেতৃত্ব কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের এই সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানই হয়তো ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান স্থগিত রাখতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডনাল্ড ট্রাম্প ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা জোরদার করেছে এবং আশা প্রকাশ করেন যে তেহরান গ্রহণযোগ্য আলোচনায় আগ্রহ দেখাবে।সৌদিপ্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য প্রসঙ্গে—হামলা না হলে ইরান আরও উৎসাহিত হতে পারে—এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, কেউ কেউ এমনটা মনে করেন, আবার কেউ কেউ ভিন্ন মত পোষণ করেন।
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন